মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৩৫ বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বিলাস

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
৩৫ বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বিলাস

দলীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মেধা ও দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম (বিলাস)। এক সময়ের ‘ছাত্রদলের মাঠ’ থেকে পদার্পণ করে এখন পুরো ইউনিয়ন বিএনপির হাল ধরায় স্থানীয় রাজনীতিতে এটি এক সুশৃঙ্খল প্রজন্মান্তরের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হককে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এমপি মহোদয়ের আস্থা ও দিকনির্দেশনা এবং দলের সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় এই দায়িত্ব পালন করতে পারাটা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তাঁর নেতৃত্বে এবং দলের আদর্শে বলীয়ান হয়ে জনকল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার পরাণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ফখরুল ইসলাম (বিলাস) এর রাজনৈতিক যাত্রা অত্যন্ত বর্ণাঢ্য।

তিনি ১৯৯৫ সালে খিলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে মেহের ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তার পিতা মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মাতা মরহুমা রৌশনারা বেগম। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্থায়ী ঠিকানা নাহারা গ্রামের পূর্বপাড়া মিয়াজি বাড়ি।

Model Hospital

· ১৯৯১-১৯৯৪: জিয়া শিশু কিশোর দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
· ১৯৯৫-১৯৯৮: রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, মেহের ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য এবং পরানপুর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন।
· ১৯৯৯-২০০৭: সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন।
· ২০০৮-২০২০: টানা নির্বাচনের মাধ্যমে সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
· ২০২০-বর্তমান: সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি চাঁদপুর জেলার সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রায় ৩৫ বছরের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনড় আস্থা রাখেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ, নির্বাচনী প্রচার ও নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ পথচলায় ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। তিনি এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, বরং সর্বদা সংগঠন গড়া ও দলের শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এই নিষ্কলুষ রাজনৈতিক অধ্যায়ই তাকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন দায়িত্বের যোগ্য করে তুলেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির এই আহবায়কের হাত ধরেই আগামীতে দলের নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।