বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

৩৫ বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বিলাস

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
৩৫ বছরের ত্যাগের স্বীকৃতি, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বিলাস

দলীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মেধা ও দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম (বিলাস)। এক সময়ের ‘ছাত্রদলের মাঠ’ থেকে পদার্পণ করে এখন পুরো ইউনিয়ন বিএনপির হাল ধরায় স্থানীয় রাজনীতিতে এটি এক সুশৃঙ্খল প্রজন্মান্তরের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হককে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এমপি মহোদয়ের আস্থা ও দিকনির্দেশনা এবং দলের সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় এই দায়িত্ব পালন করতে পারাটা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তাঁর নেতৃত্বে এবং দলের আদর্শে বলীয়ান হয়ে জনকল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার পরাণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ফখরুল ইসলাম (বিলাস) এর রাজনৈতিক যাত্রা অত্যন্ত বর্ণাঢ্য।

তিনি ১৯৯৫ সালে খিলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে মেহের ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তার পিতা মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মাতা মরহুমা রৌশনারা বেগম। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্থায়ী ঠিকানা নাহারা গ্রামের পূর্বপাড়া মিয়াজি বাড়ি।

Model Hospital

· ১৯৯১-১৯৯৪: জিয়া শিশু কিশোর দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
· ১৯৯৫-১৯৯৮: রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, মেহের ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য এবং পরানপুর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন।
· ১৯৯৯-২০০৭: সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন।
· ২০০৮-২০২০: টানা নির্বাচনের মাধ্যমে সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
· ২০২০-বর্তমান: সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি চাঁদপুর জেলার সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রায় ৩৫ বছরের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনড় আস্থা রাখেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ, নির্বাচনী প্রচার ও নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ পথচলায় ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। তিনি এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, বরং সর্বদা সংগঠন গড়া ও দলের শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এই নিষ্কলুষ রাজনৈতিক অধ্যায়ই তাকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন দায়িত্বের যোগ্য করে তুলেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির এই আহবায়কের হাত ধরেই আগামীতে দলের নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।