মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে

দেশজুড়ে এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে : লায়ন হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ এম
দেশজুড়ে এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে : লায়ন হারুনুর রশিদ

ফরিদগঞ্জে বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ।

 পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় চারা রোপণ ও বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং উপজেলা কৃষকদলের পৃথক পৃথক উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ফরিদগঞ্জে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টিপুর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মহসীন মোল্লার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী এবং বিএনপি নেতা মহসীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।
এর আগে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।
অন্যান্মযদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক পাটওয়ারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মহসীন মোল্লা, পৌর বিএনপি নেতা মহসীন পাটোয়ারী, এ এম টুটুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপি নেতা বাছির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম স্বপন এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল আমিন মোল্লা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের দুশাসন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে এখন সুশাসন ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশকে সবুজে ঘেরা সুন্দর বাংলাদেশে রূপান্তর করতে সারা দেশে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ তৃণমূলের প্রতিটি অঞ্চলে আমরা এই চারা রোপণ ও বিতরণ শুরু করেছি।”
তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “কৃষকদলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিটি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করবেন। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর বিএনপির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।”
একই সাথে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ যেসব গণমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো যেন সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পায়-সে জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অতীত নির্বাচনে যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং এসব জনকল্যাণকর উদ্যোগকে ভুয়া আখ্যা দিয়েছিল, তারা যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে।”

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।