মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চার দফা জানাজা শেষে নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:০১ এম
চার দফা জানাজা শেষে নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক

চার দফা জানাজা শেষে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক (৪৫)কে হাজীগঞ্জের ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের গাজী বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বাদ আসর বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০০২৬) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ১ মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল মালিক কিছুদিন আগে ব্রেন স্ট্রোক করেন। সর্বশেষ তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর স্ত্রী গ্র্যাজু্য়েশনধারী চিকিৎসক।

মরহুমের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্, দ্বিতীয় জানাজা মরহুমের কর্মস্থল কুমিল্লা পু্লিশ লাইনস্ ও তৃতীয় জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, শেষ ও ৪র্থ জানাজা মরহুমের নিজ গ্রাম নাটেহরাতে অনুষ্ঠিত হয়। হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক, বড় মসজিদের সাবেক ও বর্তমান মোতওয়াল্লীসহ হাজারো মুসল্লি। জানাজাশেষে চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

Model Hospital

সাইফুল মালিক ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ট্রাক রোডের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁদের আদি নিবাস হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামে। ১৯৮১ সালে জন্ম নেয়া সাইফুল মালিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যোগদান করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।