মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী বিতর্ক উৎসব

অভিযোগ শুধু অন্যের নয়, নিজের বিরুদ্ধেও চান মতলবের ইউএনও ইশমাম

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
অভিযোগ শুধু অন্যের নয়, নিজের বিরুদ্ধেও চান মতলবের ইউএনও ইশমাম

চাঁদপুর মতলব দক্ষিণে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' বিষয়ক বিতর্কে স্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল দলকে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন ইউএনও কেএম ইশমাম।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল মিলনায়তনে বিতর্ক উৎসবের ফাইনাল পর্ব সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ও কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের আয়োজনে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৬টি দল ও কলেজ পর্যায়ে ৮টি দল  এবং ইংরেজি বিতর্কে ৪টি দল অংশ নেয়।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সুফিয়া মুকুল রোজা ও আব্দুল্লাহ আল নাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেএম ইশমাম বলেন, বর্তমানে মেয়েরা সবদিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদেরকে কেউ ইভটিজিং করলে ইভটিজারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো অপরাধ ও দূর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় নাই। তিনি আরও বলেন, আমার (ইউএনও) বিরুদ্ধেও যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই অভিযোগ জানাবেন।
বিতর্ক উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক বদিউল আলম বাবু, রিয়াজ ইসলাম, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল চ্যাম্পিয়ন ও মতলবগঞ্জ জে.বি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় রানারআপ হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মতলব সরকারি কলেজ চ্যাম্পিয়ন ও কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া ইংরেজি বিতর্কে শুধু মাত্র কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ৪টি দল অংশ নেয়।এতে ওই কলেজের মেয়েদের দল চ্যাম্পিয়ন ও ছেলেদের দল রানারআপ হওয়ার গৌরব লাভ করে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথিগণ চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলগুলোর মাঝে নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলের বিতার্তিকদের সনদপত্র দেয়া হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।