বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী এমরান হোসেন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫২ এম
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী এমরান হোসেন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন হাজীগঞ্জ বাজারের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এমরান হোসেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান এমরান হোসেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মরহুম আব্দুল মতিন মিয়া ছিলেন হাজীগঞ্জ বাজারের একজন পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমরান হোসেন। ব্যবসায়ী সমাজের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও অধিকার নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এমরান হোসেন বলেন, “হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যবসায়ী নন,তারা এই বাজারের প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আমি নির্বাচিত হলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, সকল ব্যবসায়ীর কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ী সমিতিকে আরও কার্যকর,স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা, বাজারের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।”

Model Hospital

এমরান হোসেন বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু একটি পদ অর্জন করা নয়; বরং ব্যবসায়ীদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাজার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ব্যবসায়ীদের যেকোনো ন্যায্য দাবি ও সমস্যায় তাদের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে, কিন্তু আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য যেন অটুট থাকে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি সকল ব্যবসায়ী ভাইদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই। ইনশাআল্লাহ, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দর একটি ব্যবসায়ী সমিতি গড়ে তুলতে কাজ করব।”

এদিকে সভাপতি পদে এমরান হোসেনের প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক আলোচনা দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক পরিচিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।