মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারকে জামায়াতের নগদ অর্থ সহায়তা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারকে জামায়াতের নগদ অর্থ সহায়তা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন দলটির নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। চলতি বর্ষা মৌসুমে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এসব পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রাথমিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যান। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সহায়তা বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আমরা রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ক্ষমতায় নেই। শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ ও মানব কল্যাণের অংশ হিসেবে সংগঠনের তহবিল থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী যেকোনো বিপদে-আপদে আপনাদের পাশে থাকবে।
অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চুরি হলে হয়তো কোনো না কোনো জিনিস বেঁচে যায়, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যারা স্বর্বস্ব হারিয়েছেন, তারাই কেবল এই কষ্টের নির্মমতা উপলব্ধি করতে পারেন। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ঘর ও সুযোগ-সুবিধা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, নায়েবে আমীর মাওলানা কফিলউদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. তাহের, উপজেলা ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা কাজী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. হোসাইন এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মো. আবু হানিফ।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য, স্থানীয় ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।