মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ এম
শাহরাস্তিতে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মেহের কালীবাড়ি দক্ষিণ বাজারের হাজী মহিন উদ্দিন টাওয়ারে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র শাহরাস্তি উপশাখার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র কুমিল্লা অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও অঞ্চল প্রধান মোঃ মাইনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র হাজীগঞ্জ শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও শাখা প্রধান মাসরুর হাসান ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা অঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ধুর্জটি প্রসাদ ভট্টাচার্য এবং আলতাফ অটো ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোঃ আকতার হোসেন পাটোয়ারী।

শাহরাস্তি উপশাখার ডেপুটি জুনিয়র অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম মিনার, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Model Hospital

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন উপশাখার কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ নুরে আলম ও মোঃ সোহরাব হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প নেই। নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও সহজ ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটাতে পূবালী ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। বাংলা কিউআর (QR) কোডের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকরা সহজে এবং নিরাপদে বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা ও লেনদেন করতে পারেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডারদের এ সুবিধা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মাসরুর হাসান ভূঁইয়া বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন শুধু সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে না, এর মাধ্যমে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় অভ্যস্ত করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধুর্জটি প্রসাদ ভট্টাচার্য ও মোঃ আকতার হোসেন পাটোয়ারী ক্যাশলেস লেনদেনের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। বক্তারা বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

শাহরাস্তি উপশাখার পক্ষ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বাংলা কিউআর কোড প্রদানের কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ভ্যারাইটিজ স্টোর, শাইফুল হার্ডওয়্যার, নিউ মিষ্টি মুখ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, রাব্বি ট্রেডার্স, মেহেদী স্টোর, আল আমিন এগ্রো ফার্ম, মাতা পিতা জেনারেল স্টোর, হারুন স্টোর, পাল শিল্পালয়, বণিক স্টোর, ভাই ভাই ফল ভান্ডার, উত্তম পানের আড়ত, রুবাইয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, গাজী এন্টারপ্রাইজ, শাহরাস্তি ফোম হাউস, জনপ্রিয় স্টোর, কাজল শিল্পালয়, শাহরাস্তি এন্টারপ্রাইজ, মা ফরেন ফার্নিচার হাউস, আফসানা মেডিকেল হল, বন্ধন কমিউনিকেশনস, রোজ ভ্যালি ইলেকট্রনিক, মিম এন্টারপ্রাইজ, রিভার ভিউ কফি ও রেস্টুরেন্ট, নির্ঝর ফুড পার্ক ও কমিউনিটি সেন্টার, পপুলার হাসপাতাল ফার্মেসি, গ্রিন হোমস ও ইলেকট্রনিক্স, স্মার্ট ইলেকট্রনিক্স ও সোলার হাউস, ইনফিনিটি অরেঞ্জ ফ্যাশন মল, শাহরাস্তি ডিজিটাল সাইন এবং সীমান্ত এন্টারপ্রাইজ উল্লেখযোগ্য।

সভায় বক্তারা উপস্থিত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেন বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা সম্ভব। পরে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।