বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শফিকুর রহমানের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শফিকুর রহমানের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম দায়চারা গ্রামের কৃতী সন্তান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও পশ্চিম দায়চারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শফিকুর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোররাত ৩টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়স্বজন, সহযোদ্ধা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে ভিড় করেন।
সোমবার বিকেল ৪টায় পশ্চিম দায়চারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শফিকুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার শেষে সশস্ত্র সালাম ও নীরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী শফিকুর রহমানের অবদান এবং পরবর্তী সময়ে এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।