শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত ১০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২, ৩:০১ পিএম
হাইমচরে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত ১০
হাইমচর প্রতিনিধি : হাইমচর উপজেলার ১ নং গাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। অপর দিকে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৩০ কেজি চাউল দেয়ার প্রতিবাদ করায় সোহেল মাঝির  উপর হামলা করা হয়েছে বলে জানান সোহেল মাঝির পরিবারের লোকজন।
জনাজায়, শুক্রবার বেলা ১১ টায় গাজিপুর ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে চাউল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজি। এসময় চাউল নেয়ার জন্য অটো নিয়ে আসেন জেলে আহসান গাজী। অটোর ড্রাইভার হাসেম সরদার অটোটি পরিষদের সামনে রাখায় অন্য আরেক অটো ড্রাইভারের সাথে কথা কাটাকাটি হলে চেয়ারম্যানের ছেলে আবু তাহের গাজি ড্রাইভারকে মারধোর করেন।
ড্রাইভারের সাথে থাকা সোহেল মাঝি প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের ছেলেরাসহ পরিষদের লোকজন তাকে মারধোর করে। পরে সোহেল মাঝির পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে পরিষদে আসলে চেয়ারম্যান হাবু গাজিসহ তার ছেলেরা তাদের উপর হামলা করলে উভয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজির ৪ছেলে সহ ১০ জন আহত হন। আহতরা সবাই হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। প্রতিবাদকারি সোহেল মাঝির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সংবাদ পেয়ে হাইমচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
গুরুতর আহত সোহেল মাঝির ভাতিজা ছিদ্দিক মাঝি  জানান,  সোহেল মাঝি তার আত্মীয় এক জেলের সাথে পরিষদে গিয়েছিলেন। সেখানে ৪০ কেজি চাউলের পরিবর্তে ৩০ কেজি চাউল দেয়ায় সোহেল তার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের চেলেরা তার উপর হামলা চালায়। চেয়ারম্যানের লোকজনের হামলায় সোহেল মাঝি গুরুতর আহত হন। সোহেল মাঝি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজি পরিষদের আসবপত্র ভেঙ্গে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।
অটো ড্রাইভার হাসেম সরদার জানান, পরিষদের সামনে অটো রাখলে অন্য আরেক অটো ড্রাইভার আমার সাথে কথা কাটাকাটি করলে চেয়ারম্যানের ছেলে আমাকে মারধোর করতে থাকে। আমার সাথে থাকা সোহেল মাঝি প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের চেলেরা তাকে বিতরে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে  সোহেলের পরিবার ঘটনাটি জানতে পেরে পরিষদে আসার সাথে সাথে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজিসহ তার ছেলেরা আমাদের উপর হামলা চালায়।
ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাউল দেয়া অবস্থায়  পরিষদে এসে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে লুটাফাট করেছে। আমি এসে আপনাদের বিস্তারিত জানাবো।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশিদ জানান, গাজিপুর ইউনিয়নে চাউল দেয়ার সময় সংঘর্ষের সংবাদ পেয়েছি। ঐ সময় আমি নদীতে অভিযানে ছিলাম।
হাইমচর থানা এ এস আই প্রাণ কৃষ্ণ জানান, ১ নং গাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। তিনি জানান, অটো রাখাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি বড় আকারে রুপ নিয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’