বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ড্রেজার জব্দ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
শাহরাস্তিতে কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ড্রেজার জব্দ
শাহরাস্তিতে অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমির মাটি উত্তোলনের দায়ে মো. ইসমাইল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির নরিংপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মুনিরা খাতুনের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওএক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওইদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিন ইউপির   নরিংপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কৃষিজমির টপসয়েল ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ সময় খেড়িহর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইলকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।পরে  অনুমোদন ছাড়া ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি উত্তোলনের দায়ে জমির মালিক মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলা করা হয়।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনের ১৫(১) ধারায় তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করা হয়।
এ সময় অভিযান পরিচালনাকারী শাহরাস্তি সহকারী  কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ  ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কেটে মাটি উত্তোলন করলে জমির উর্বরতা ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় আইন অমান্য করে মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।