বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ভাটেরগাঁও সপ্রাবিয়ে মা সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ভাটেরগাঁও সপ্রাবিয়ে মা সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩৬ নং ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মা সমাবেশ। সেই সাথে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নে মেধা তালিকায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের মাঝে পুরষ্কারের পাশাপাশি বৃত্তিপ্রাপ্ত দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাকীর স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম হোসেন মিজি, সকদী পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মেহেদী মাসুদ মিঠু, ইউনিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আক্তার হোসেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম তপদার প্রমূখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে আগত মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে একটি শিশুর সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমার প্রথম ধাপ। মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে যখন একটি শিশু প্রথম বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখে তখন শুরু হয় তার নতুন জগতে বিচরণ। এই বিচরণকে মসৃণ করতে মায়ের সচেতনতাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাথমিক শিক্ষায় ‘মা সমাবেশ’ নামক এই আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই মা সমাবেশের মাধ্যমেই সমাজকে সচেতন করা হয় শিশু শিক্ষার প্রতি নজর দেয়ার জন্য। শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে প্রথম পদক্ষেপ সাধারণত মা-ই নিয়ে থাকেন। তাই ‘মা সমাবেশ’ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
তারা আরো বলেন, এই সমাবেশটি শিক্ষার্থীর ঘাটতিগুলো সনাক্ত করে নিরাময়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিশুর জন্য পরিবারে এবং বিদ্যালয়ে ভীতিহীন পরিবেশ বজায় রাখা, শিশুর পাঠের তদারকি এবং শেখার কাজে শিশুকে আগ্রহী করে তোলা যায়। শিশুকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সম্ভব হয় মা সমাবেশের মাধ্যমেই। মা সমাবেশের মাধ্যমে একজন মা আরও একাধিক মায়ের সাথে ভাব বিনিময়ের সুযোগ পেয়ে থাকেন যার দরূন সন্তানের জন্য সঠিক ও উপযুক্ত লক্ষ্য নির্ধারণ সহজ হয়।
পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, সদস্য গাজী মনির খান, ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, এসএমসি সদস্য মোঃ মহসিন, ফারজানা আক্তার, সীমা আক্তার সহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উক্ত বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদানের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কৃত করা হয়।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।