বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভা

তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : আয়েত আলী ভূঁইয়া

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : আয়েত আলী ভূঁইয়া
শাহরাস্তিতে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বর্ধিত ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রায়শ্রী শেখ শাহজাহান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি।
প্রধান মেহমান ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউছুফ পাটোয়ারী রুপম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
প্রধান মেহমানের বক্তব্যে আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের ত্যাগ ও প্রত্যাশার বিষয়টি নেতৃত্ব অবগত রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার, রাষ্ট্র মেরামত ও বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। অচিরেই এসব উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হবে।তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক শক্তির মূল ভিত্তি তৃণমূলের নেতাকর্মী। তাই কোনো ধরনের বিভাজন বা ভেদাভেদ তৈরি করা যাবে না। সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আয়েত আলী ভূঁইয়া ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শাহরাস্তির সন্তান হিসেবে এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে এ জনপদের উন্নয়নের প্রতি আমার বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সমৃদ্ধ শাহরাস্তি গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধান বক্তা আবু ইউছুফ পাটোয়ারী রুপম বলেন, ইউনিয়নের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্য বজায় রেখেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে এমন বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে সেলিম পাটোয়ারী লিটন উপজেলার সার্বিক রাজনীতি ও তার নিজ ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হোসেন, শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজি, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ,পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ন আদনান নোমান, উপজেলা ওলামাদের সভাপতি  মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা তাঁতী দলের সাবেক সভাপতি এমরান হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হান্নান, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির পিন্টু এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান ফয়সাল।
এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।