মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সপ্রাবিতে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরী : শিক্ষা অফিসার মোছাদ্দেক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরী : শিক্ষা অফিসার মোছাদ্দেক

উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন।

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, আজকের এই চমৎকার দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান যেকোনো বিদ্যালয়ের জন্যই একটি উৎসবের দিন। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে, যা তাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে। আগামী বছর চতুর্থ শ্রেণি থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা করে, তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে হবে। তাদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং চিন্তাশীল ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সাল থেকে আমি চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন থেকেই বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক এবং এ বিদ্যালয়ের সভাপতি সাংবাদিক সোহেল রুশদী বিদ্যালয়গুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। তিনি তাঁর দাদার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগলে রেখেছেন। এ জন্য মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি ছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী। সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। এমন মানুষ হাজারে ও লাখে দু-চারজন পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান ও সংস্কৃতিচর্চাও চালিয়ে যেতে হবে। জীবনকে সুন্দর করতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়া এবং বড়দের সম্মান করতে শিখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু সাঈদ চৌধুরী এবং উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, আজকের অনুষ্ঠান একটি স্মরণীয় দিন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ দিতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও ধর্মীয় চর্চাও করতে হবে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আনন্দের দিন। শিক্ষকরা নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেবেন। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে রাখেন সাংবাদিক সোহেল রুশদী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে আমার দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ অঞ্চলসহ সারাদেশে প্রায় অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘রুশদী’ উপাধিতে ভূষিত করে।

তিনি আরও বলেন, এ বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে এবং মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা করতে হবে। ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এ বিদ্যালয়কে এ অঞ্চলের একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। সরকার শিক্ষার উন্নয়নে যেসব নির্দেশনা দেবে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সাংবাদিক সোহেল রুশদী বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক শিক্ষার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন এবং সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন একজন আইকনিক কর্মকর্তা। বিশেষ অতিথি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু সাঈদ চৌধুরী একজন শিক্ষাবান্ধব কর্মকর্তা। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম শিক্ষার্থীদের সুখে-দুঃখে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সপ্রাবি  বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দিদার হোসেন মিজি। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহসিন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তহমিনা আক্তার, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, পাইকদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা চৌধুরী, উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তহমিনা খানম, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোশারফ কারী, ৪নং ওয়ার্ড ( শাহতলী) বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ মিজি, অভিভাবক ডিবি কর্মকর্তা (অব.) মো. সাইফুল কবির চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. নুরুজ্জামান মুন্সি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন মিজি, সমাজসেবক মো. সোহাগ গাজী ও মো. জাহাঙ্গীর মিজিসহ অভিভাবক, অতিথি ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা, সাহিনা সুলতানা, নাজিয়া মাহবুব ও মো. কবির হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। শেষে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ পর্বসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।