চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা : থানায় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পিএম
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে পৈতৃক সম্পত্তি ও জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে নেওয়া ও বসতঘরের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মামদুদ আহমেদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দাসেরগাঁও হাজী বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল বাছেত মিয়া পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মালিক। ওই সম্পত্তির মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ জমি তিনি ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে তাঁর তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমিটির নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে গত ১১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন ওই জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যান। এ সময় জমির টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং বসতঘরের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন মামদুদ আহমেদ। মামদুদ আহমেদের দাবি, তিনি অভিযুক্তকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেও কোনো সমাধান পাননি বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, আমার দাদার সম্পত্তি বাবা-চাচাদের ও ফুফুদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে। ঐ সম্পত্তি থেকে আমার বাবা আমাদের নামে সম্পত্তি লিখে দেন। অভিযুক্ত বিল্লাল এর আগেও আমরা গ্রামের বাইরে থাকার সুযোগে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আমার ফুফু সাদিয়া খাতুন ও রহিমা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে জমিটি ক্রয় করেছি। জমিটি ক্রয়ের পর নিজের নামে নামজারিও সম্পন্ন করেছি। তাই জমিটির মালিকানার বিষয়ে আমার নিজস্ব দলিলপত্র রয়েছে।”
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই আনোয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, “এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু বিষয়টি জমিজমা- সংক্রান্ত, তাই উভয় পক্ষকে তাঁদের নিজ নিজ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র আমার কাছে জমা দিতে বলেছি।”








