মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা : থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পিএম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা : থানায় অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে পৈতৃক সম্পত্তি ও জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে নেওয়া ও বসতঘরের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মামদুদ আহমেদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দাসেরগাঁও হাজী বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল বাছেত মিয়া পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মালিক। ওই সম্পত্তির মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ জমি তিনি ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে তাঁর তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমিটির নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে গত ১১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন ওই জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যান। এ সময় জমির টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং বসতঘরের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন মামদুদ আহমেদ। মামদুদ আহমেদের দাবি, তিনি অভিযুক্তকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেও কোনো সমাধান পাননি বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, আমার দাদার সম্পত্তি বাবা-চাচাদের ও ফুফুদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে। ঐ সম্পত্তি থেকে আমার বাবা আমাদের নামে সম্পত্তি লিখে দেন। অভিযুক্ত বিল্লাল এর আগেও আমরা গ্রামের বাইরে থাকার সুযোগে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আমার ফুফু সাদিয়া খাতুন ও রহিমা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে জমিটি ক্রয় করেছি। জমিটি ক্রয়ের পর নিজের নামে নামজারিও সম্পন্ন করেছি। তাই জমিটির মালিকানার বিষয়ে আমার নিজস্ব দলিলপত্র রয়েছে।”
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই আনোয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, “এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু বিষয়টি জমিজমা- সংক্রান্ত, তাই উভয় পক্ষকে তাঁদের নিজ নিজ জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র আমার কাছে জমা দিতে বলেছি।”

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।