শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজে উৎসবমূখর পরিবেশে ফল উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুন, ২০২২, ২:০৫ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজে উৎসবমূখর পরিবেশে ফল উৎসব

ক্যাম্পাস রিপোর্ট : মেঘনা পাড়ের বাতিঘর বলে খ্যাত চাঁদপুর সরকারি কলেজে ১২ জুন (রবিবার) সকাল ১০ টায় উৎসবমূখর পরিবেশে রাজু ভবনের সামনে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী ফলের সাথে বর্তমান প্রজন্মকে পরিচিত করা এবং বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন দেশীয় ফল সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ফল উৎসবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশের সভাপ্রধানে ফল উৎসবে অতিথি ছিলেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মাহবুবুর রহমান, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, চাঁদপুরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ফল উৎসবে ১৭ টি বিভাগ ১৭টি স্টলে ৪৩ প্রজাতির দেশীয় ফল প্রদর্শন করেন। অতিথিরা বিভিন্ন স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিভাবে এ বিলুপ্ত প্রায় ফলগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সে সম্পর্কে জেনে নেন।

Model Hospital

রসায়ন বিভাগের স্টলে লটকন, দেশী গাব এবং বিলাতি গাব; অর্থনীতি বিভাগের স্টলে কলা, নারিকেল ও ডাব; বাংলা বিভাগের স্টলে বেতুন, বৈঁচি, বেলুম্ব, কাঠবাদাম ও তালের শাঁস; ইংরেজি বিভাগের স্টলে আনার ও ডালিম; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্টলে জামরুল, ডুমুর ও দেশি খেজুর; প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্টলে হরিতকি, আমলকী, বহেরা ও আড়বরই; সমাজকর্ম বিভাগের স্টলে জাম্বুরা, কামরাঙ্গা ও বেল; ইতিহাস বিভাগের স্টলে পেঁপে; ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্টলে ডেউয়া ও কাউ; দর্শন বিভাগের স্টলে নুইন্যা, করমচা ও গুটিজাম; পদার্থবিদ্যা বিভাগের স্টলে তরমুজ; উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের স্টলে আনারস, ছাগলনাদি, জগডুমুর, আমড়া ও বুতিজাম; ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্টলে আম; হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্টলে লিচু ও পেয়ারা; গণিত বিভাগের স্টলে কাঁঠাল; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্টলে জাম ও সফেদা এবং ভূগোল বিভাগের স্টলে ছিল চালতা, তেঁতুল ও লেবু ছিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘মধু মাসে চাঁদপুর সরকারি কলেজ কর্তৃক ফল উৎসবের আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। উৎসবে এসে বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় ফলের সংগ্রহ দেখলাম। এই ফলগুলোর মধ্যে অনেক ফল আমরা খেয়েছি, অনেক ফল খাওয়ার সুযোগ হয়নি। চাঁদপুর সরকারি কলেজ চাঁদপুর জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ, আশা করছি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং এসব ফল সংরক্ষণের চেষ্টা করবে। চাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার, চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি এর বিশেষ নজর রয়েছে চাঁদপুরের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর সরকারি কলেজের প্রতি। চাঁদপুর সরকারি কলেজ আরো এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই আমরা করছি।’

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, আজকের এই ফল উৎসব আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে দেশি ফলের সাথে পরিচিত করা এবং ফলগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয় তা হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া। আজকের আয়োজনে আমরা ৪৩টি প্রজাতির ফল উপস্থাপন করেছি কিন্তু এর মধ্যে অনেক ফল আছে যেগুলোর সাথে আমাদের নতুন প্রজন্ম পরিচিত না এবং ফলগুলো বিলুপ্তির পথে। ফল সংরক্ষণ, আবহাওয়া ও অনুকূল পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ফল উপস্থাপন করাই ছিল আমাদের আজকের আয়োজনের লক্ষ্য।

ফল উৎসব আয়োজনের সময় পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বাহার, ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালেদ ইকবাল, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোঃ শেখ সাদী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মনোষ্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে উৎসবস্থল মাতিয়ে রাখেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’