শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রায়শ্রী দক্ষিণ  ইউপি বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২, ৩:১৭ পিএম
শাহরাস্তিতে রায়শ্রী দক্ষিণ  ইউপি বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা
বিশেষ প্রতিনিধি : শাহরাস্তিতে দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি তেলের উর্ধ্বগতি, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও ভোলায় ছাত্রদল নেতা নূরে আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকেলে (২৮-আগস্ট) উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির খিলাবাজারে বিএনপি’এবং অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, ওইদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে  বিকেল ৪টায় উপজেলা ও পৌরসভা এবং রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপি বিএনপির নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থকরা খিলা বাজারে এ বিশাল বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
ওইদিন দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল জনবিস্ফোরণের রূপ নেয়। ওই সময় কর্মী সমর্থকরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
ওইদিন ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে টেলি কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, সাবেক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, হাজিগঞ্জ শাহরাস্তি বিএনপির সমন্বয়ক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য লায়ন ইঞ্জি: মমিনুল হক।
এ সময় ইউপি বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক মোজাহের হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন তিনি বক্তব্য বলেন, দেশ আজ স্তব্ধ নেই সুশাসন মানবাধিকার পরিস্থিতি চরম নাজুক। আজ সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার অধিকার সংকোচিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক ময়দানে জীবনের নিরাপত্তা নেই। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে গিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। আলীগের এ সরকার আরেকটি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ফর্মুলা আবিষ্কার ব্যস্ত রয়েছে। বাংলার মাটিতে পুনরায় নিশীতে ভোট আর হতে দেওয়া হবে না। আসুন আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের সরকার গঠন করে এই আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের চরিত্র মানুষের নিকট উন্মোচন করতে হবে। তারা জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন না করে সম্রাট, জিকে শামিম, পাপিয়াদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে। সেজন্য এখন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বেগম জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথ সুগম করতে আন্দোলন ভেগবানের  বিকল্প নেই। তিনি এও বলেন সরকারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী সম্প্রতি ভোলায় আমাদের ছাত্রদল নেতা নূরে আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমকে হত্যা করে। আমরা এই নেক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই।
ওই সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত নেতা মো: ফারুক হোসেন মিয়াজী, প্রধান বক্তা হিসেবে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম রিপন, ইউপি সহ-সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, চিতোষী  পশ্চিম ইউপির সাধারণ সম্পাদক জসীমউদ্দীন বিএসসি, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ আলী আজগর, খিলা বাজার স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য ইউপি যুবদলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক চেয়ারম্যান আবু হানিফ, প্রবীণ বিএনপি কর্মী তাজেন আহমেদ, ইউপি মহিলা দলের সভাপতি রৌশন আরা, ইউপি যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ আল-আমিন, ইউপি ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল, বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন, শাহজাহান, খোরশেদ, ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’