বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুর্বৃত্তের আ’গুনে পু’ড়ে ৩ গরুর মৃ’ত্যু, হৃদরোগে আক্রান্ত খামারি!

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
শাহরাস্তিতে দুর্বৃত্তের আ’গুনে পু’ড়ে ৩ গরুর মৃ’ত্যু, হৃদরোগে আক্রান্ত খামারি!
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে  একটি গরুর খামারে দুর্বৃত্তের  দেওয়া আগুনে  তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে খামারটি সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। চোখের সামনে প্রিয় গরুগুলো পুড়ে মারা যাওয়ার দৃশ্য ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি সইতে না পেরে খামারের মালিক ইয়াকুব আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউপির  আলীপুর মিজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতে নিজের গরুগুলোর দেখাশোনা শেষে খামারি ইয়াকুব আলী ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে খামারে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ইয়াকুব আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তার গো-খামারটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত খামারে থাকা তিনটি গরুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে খামার ও তিনটি গরু পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ইয়াকুব আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। একদিকে প্রিয় গরুগুলো হারানোর শোক, অন্যদিকে খামার পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি পরিবারটিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
ইয়াকুব আলীর ছেলে আমান উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে খামারে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। একই অভিযোগের কথা জানান পরিবারের জামাতা মো. খোকন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে খামার থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে ফেলেন। তখন চোরেরা গরুটি রেখে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
পরিবারের ধারণা, খামারে দাহ্য পদার্থ  দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, খামারটিতে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ফলে আগুনের ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুড়ে মারা যাওয়া গরুগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার বিষয়টি অবহিত হয়ে গণমাধ্যমকে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।ক্ষতিগ্রস্ত মালিক অভিযোগ দিলে বিষয়টি পুলিশ  তদন্ত করে দেখবে।এ বিষয়ে সাবেক শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার  ডা. দুলাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। একজন খামারি নিজের শ্রম, অর্থ ও স্বপ্নকে কাজে লাগিয়ে খামার গড়ে তোলেন। এটি শুধু তার জীবিকার উৎস নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন পূরণেরও অন্যতম অবলম্বন। সেই খামারে আগুন দিয়ে গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটানো অত্যন্ত অমানবিক ও নিন্দনীয়। এমন ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়।”

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।