শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আমারা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্ট্রান সকল ধর্মের মানুষ একত্রেই থেকেছি; শফিকুর রহমান এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১:৪৭ পিএম
আমারা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্ট্রান সকল ধর্মের মানুষ একত্রেই থেকেছি; শফিকুর রহমান এমপি

এস এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমুন নেছার সভাপতিত্বে ও একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল- মামুনের পরিচালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডাঃ পরেশ চন্দ্র পাল, আ’লীগ নেতা আমির আজম রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজুমদার, ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজুদা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস মাওলানা মমিনুল ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র দাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, পৃথিবীর যত বিখ্যাত পন্ডিত ব্যক্তি বা ধর্মীয় ব্যক্তি ছিলেন বা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই তাদের কথায় মানুষকেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বলে গেছেন। সেখানে কোন জাতের কথা বলা হয় নি। অর্থাৎ সবার উপরে মানুষ সত্য এই কথাটিই চির সত্য। একই ভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এবং ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমারা আবহমান কাল থেকে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্ট্রান সকল ধর্মের মানুষ একত্রেই থেকেছি। ঈদ পূজা পার্বনে একে অপরের উৎসবে ভাগিদার হয়েছি। কিন্তু একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র আমাদের এই শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানকে ভুলুষ্ঠিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে।

Model Hospital

গত বছর কুমিল্লায় দুর্গাপূজা সময় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। কিন্তু সরকারে কঠোর পদক্ষেপের কারণে দ্রুত সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসে। তাই আমাদের এবছর পূজাকে সামনে রেখে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি জামাতসহ প্রতিক্রিয়াশীলরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের উস্কানি দেয়া শুরু করেছে। আমরা বলতে চাই সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড আমরা সম্প্রীতি দিয়েই মোকাবেলা করবো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকারীদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’