শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহিন সম্পাদক সাইফুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:৩৩ এম
হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহিন সম্পাদক সাইফুল
নিজস্ব প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের দ্বী-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক। নির্বাচনে ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪০ জন তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৩৯ ভোট বৈধ ও ১ ভোট বাতিল হয়।
বৈধ ৩৯ ভোটের মধ্যে ২২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মহিন উদ্দিন মাইনু ও ৩৩ ভোট পেয়ে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম মিয়াজী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্ধী সভাপতি পদে নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭ ভোট এবং সাধারন সম্পাদক পদে জামাল হোসেন পেয়েছেন ৬ ভোট।
এর আগে নেতৃবৃন্দের সাথে সংপ্তি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকুর রহমান মানিক বলেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপে তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। কোন অবস্থাতেই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন কোন অবস্থাতেই করতে দিবেনা যুবদল।
ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শেখ আলী আহাদ লিয়াকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বী-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ আলম রবিন এবং এ দিন বিকালে শুরুতেই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আকতার হোসেন দুলাল।
উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির সুমনের উপস্থাপনায় সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব কাজী জসিম উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক শুকুর আলম বেপারী, আমিন খাঁন মিন্টু, জুলহাস চৌধুরী, ফয়েজ আহমেদ, ইসমাইল হোসেন, শাহিদুল ইসলাম সাহেদ, সদস্য আব্দুল হক মানিক, সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বিল্লাল হোসেন বেলাল, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মিঠু চৌধুরী, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মজিবুর রহমানসহ গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’