শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে সর্ব কনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হলেন শাহাদাত হোসেন সবুজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:২৭ পিএম
হাইমচরে সর্ব কনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হলেন শাহাদাত হোসেন সবুজ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচরে এই প্রথম সবচেয়ে কম বয়সে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন হাইমচর উপজেলার ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সবুজ।
তিনি অল্প বয়সেই জনসমর্থন অর্জন করে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত করে গত ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০৭ ভোটে জয়লাভ করেন। তার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১নং গাজীপুর ইউনিয়নে। তার পিতা মোঃ বাচ্চু পেদা, মাতা জাহানারা বেগম। তিনি পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তার জেঠা মোঃ শাহজাহান মিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই শাহাদাত হোসেন সবুজ জনকল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তার প্রচারনা অন্যরকম ছিল, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটা এলাকায় যুব সমাজের মধ্যে খেলাধুলার আয়োজন, সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, স্থানীয় মুরব্বিদের সাথে আলোচনা করে কিভাবে সমাজ থেকে মাদক দূর করা যায় সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে কাজ করে যাওয়া তার নিত্য দিনের অভ্যাস ছিল। করোনাকালীন সময় থেকে তার এলাকায় অসাধারণ পরিকল্পনায় মানুষকে সচেতন করেন।
অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের সহযোগিতা করা, চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা করা তার যেন দৈনিক কর্ম রুটিন হয়ে যায়। আর তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। জনগণের ভালোবাসায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান গাজীকে ১০৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চাঁদপুরের দক্ষিণে সর্ব কনিষ্ঠ চেয়ারম্যান মনোনীত হন তিনি।
নেতৃত্বের দিক থেকেও শাহাদাত হোসেন সবুজের ছিল অসাধারণ দক্ষতা। যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়ার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় রাজনীতিতে পদার্পণ করে গাজীপুর ইউনিয়নবাসীকে ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছেন শাহাদাত হোসেন সবুজ। আর সে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে গাজীপুরবাসী তাদের প্রিয় নেতৃত্বকে ৫ বছরের জন্য অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে নিয়েছে।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সবুজ বলেন, আমার জেঠা শাহজাহান মিয়ার অনুপ্রেরণায় আমি রাজনীতিতে এসে জনগণকে ভালোবাসায় আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। আজ গাজীপুরবাসী আমার ভালোবাসার মূল্য দিয়েছে। আগামী ৫ টি বছর তাদের সেবক হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা প্রতিটি ভোটারের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিবো- ইনশাআল্লাহ।
আমি কম বয়সী একজন চেয়ারম্যান। খুব কম বয়সেই গাজীপুর ইউনিয়নবাসী আমাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গাজীপুর ইউনিয়নটি নদী ভাঙ্গন কবলিত একটি ইউনিয়ন।
এ ইউনিয়নের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’