শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ’ উপলক্ষে সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩, ২:৪৫ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ’ উপলক্ষে সেমিনার

ক্যাম্পাস রিপোর্ট : মেঘনাপাড়ের বাতিঘর চাঁদপুর সরকারি কলেজে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, চাঁদপুরের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক সেমিনার কলেজ অডিটোরিয়ামে সোমবার (৬ মার্চ) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশের সভাপ্রধানে এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা আক্তারের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো: মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, পৌর মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসুদুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

Model Hospital

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন, আরবি ও ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল-আমিন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক গোপাল কৃষ্ণ ভৌমিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ।

তিনি এ আয়োজনে সংম্লিষ্ট সকলকে কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: শামসুল আলম। সেমিনার প্রবন্ধে ৭ই মার্চের ভাষণকে বঙ্গবন্ধুর অমর রচনা, বাঙ্গালীর মহাকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এ মহাকাব্য বাঙ্গালীর স্বাধীনতার লালিত স্বপ্ন থেকে উৎসারিত। এমন মহাকাব্য রচনা কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব। জাতীর মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে এবং দেশ গঠনের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ১৯ মিনিটের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক দলিল।

সেমিনারে মূখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ছড়াকার ডা. পিযুষ কান্তি বড়ুয়া এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। সেমিনারে বক্তাগণ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীরসেনানীকে।

তারা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে, এটি একটি অভাবনীয় ভাষণ ছিল। ভাষণের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য মুক্তিকামী বাঙালির শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়েছে, আমাদেরকে উজ্জীবিত করেছে। এই ভাষণটি বিশ্বমানবতার জন্য অবিস্মরণীয় ও অনুকরণীয় মূল্যবান দলিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) শিক্ষার্থীদের সাথে ৭ই মার্চের ভাষণ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইন্টারেক্টিভ আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরা স্বত:স্ফূর্ত ভাবে ইন্টারেক্টিভ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস যুগিয়েছিল রাজনৈতিক কবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি।’ তিনি শিক্ষার্থীদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং শিক্ষার্থীরা সেসকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে লেখাপড়ার পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি। প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিবৃন্দ সুন্দর আয়োজনের জন্য কলেজ পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন আয়োজনে চাঁদপুর সরকারি কলেজ পরিবারকে সাথে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে সেমিনারটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’