শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় কৃষকের ১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩, ৪:১৪ পিএম
কচুয়ায় কৃষকের ১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কচুয়া : কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের রাতের আধারে প্রায় ১ হেক্টর ফসলী জমিতে বোপন ও রোপন করা ধান,মরিচ, ভুট্টা, ধনিয়া পাতা ও পেঁয়াজ গাছ কেটে উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাতে মেঘদাইর গ্রামের ফসলী মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থ চাষী আব্দুল করিম ও ভুলু মিয়া জানান,মেঘদাইর মাঠে এক একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেন তারা। অনেক টাকা ব্যয় করে তারা ভুট্টা ও অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছি। কিন্ত সোমবার রাতে একদল দুর্বৃত্তরা সব গাছ কেটে উপড়ে ফেলে দেয়। আমাদের পুঁজি যা ছিলো তা ভুট্টা ক্ষেতে লাগিয়েছি। এতে ৫০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুট্টা বিক্রি করে এনজিও ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিলো।

মরিচ চাষী মহিব উল্যাহ মোল্লা,রাশিদা আক্তার ও হারুন জানান, রাতের অন্ধকারে আমাদের ৪২ শতক জমির মরিচ গাছ তুলে উপড়ে ফেলে দেয়। পরিদন মঙ্গলবার মরিচ গাছ পরিচর্যা করতে গেলে এ দৃশ্য দেখতে পাই। এতে আমাদের ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

Model Hospital

ধান চাষী দেলোয়ার হোসেন ও কৃষানী মনিকা রানী বলেন, মেঘদাইর মাঠে প্রায় বেশির ভাগ জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আমরা এ মাঠে ৯৪ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু শত্রুতাবশত কে বা কাহারা সোমবার রাতে ধানের চারা গুলো কেটে দিয়েছে। এতে আমাদের ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমরা ঋণ করে এসব চাষাবাদ করেছি। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা আমাকে জানিয়েছেন। আমি সরজমিনে মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলী জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.সোফায়েল হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ফসলী জমিগুলো পরিদর্শন করেছি।কৃষি বিভাগ থেকে ওই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা দিয়ে সহযোগীতা করা হবে। কৃষকদের কষ্টের অর্জিত ফসল দুর্বৃত্তরা নষ্ট করেছে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’