শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসি শাহরাস্তি থানার মোহাম্মদ শহীদ হোসেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩, ২:০৫ পিএম
চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসি শাহরাস্তি থানার মোহাম্মদ শহীদ হোসেন
এস. এম ইকবাল  : শাহরাস্তি থানা হতে প্রথম বারের মত চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।
২২ মার্চ বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের কল্যাণ সভা শেষে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বিপিএম(বার)’র কাছ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার গ্রহণ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মোহাম্মদ শহীদ হোসেন শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর হইতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, গাঁজা, ইয়াবা, ওয়ারেন্ট তামিলকারী ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফলতার সাথে অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্ভুল ও সুচারুরূপে পালন করেন। তাই জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক বিবেচনায় তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মনোনিত হন।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, আমি সরকারি নির্দেশনা মেনে সকল দায়িত্ব পালন করে চলছি। সেই সাথে এলাকার শান্তি শৃংখলার যেন অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকি।
তিনি আরো বলেন, এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে সকল কাজে দিক নির্দেশনা প্রদান করার জন্য মাননীয় পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম(বার) স্যার, সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া) সার্কেল আবুল কালাম চৌধুরী স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরুস্কার শাহরাস্তি থানার সকল সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও কর্ম তৎপরতার ফসল, তিনি শাহরাস্তিবাসী কে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন আরো বলেন, এ পুরুষ্কার আমাকে আগামীতে জনগণকে আরও বেশি সেবা দিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
উল্লেখ্যঃ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ থাকাবস্থায় সর্ব মহলে প্রশংসিত হন এবং চাঁদপুর জেলায় ৫ বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’