শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আধুনিক সেবা সম্বলিত মডেল ইউনিয়নে উন্নীত করতে চাইঃ জাকির হোসেন বাবু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৩৮ পিএম
আধুনিক সেবা সম্বলিত মডেল ইউনিয়নে উন্নীত করতে চাইঃ জাকির হোসেন বাবু
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবু। দলমত নির্বিশেষে তাঁর একটি জনপ্রিয়তা আছে ইউনিয়ন ঘিরে। তাই সর্বস্তরের জনসাধারণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে চায়। ইতোমধ্যেই তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন বাবু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তারই সুযোগ্য কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তার সহায়ক হিসেবে দলের সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি জনগণকে সাথে নিয়ে অবশ্যই সফল হবো।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার সাবেক সফল সংসদ সদস্য জননেতা ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়া মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। সকল জাতীয় ও দলীয় কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে আসছি দৃঢ়তার সাথে। তাই আমি শতভাগ আশাবাদী দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিবেন। দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক সেবা সম্বলিত মডেল ইউনিয়নে উন্নীত করতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ও সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি পরিচালনা কমিটি করবো।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন বাবুর ভাবনা: সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১“ গ্রাম হবে শহর” বাস্তবায়নের যুদ্ধে অঙ্গীকারবন্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করতে ভালোবাসি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করার মাধ্যমে আগামী দিনে সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুন্দর একটি সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি অত্র ইউনিয়নের সকলের কাছে দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’