শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মতল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মতলব উত্তরে নুরুল আমিন রুহুল এমপি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা

মনিরুল ইসলাম মনির: প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩, ১০:১১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মতলব উত্তরে নুরুল আমিন রুহুল এমপি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা

মনিরুল ইসলাম মনির: মতলবে উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ মিয়া কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা, বাংলাদেশ আওয়মী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ মে শুক্রবার বিকেলে ছোট মরাধন (চকবাজারে) অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে থেকে মিছিলটি বের করে বিভিন্ন মোর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

পরে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল আমিন রুহুল এমপি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর নিরলসভাবে এলাকার উন্নয়ন করে এসেছি। মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। এখনো আছি ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাল্লাহ।

Model Hospital

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিদাতা রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে আটক করেছে পুলিশ। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বিএনপি -জামাত বেশ করেকবার চেস্টা করেছে। মানুষের দোয়ায় আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছে।এদেশের জনগন আওয়মীলীগের পাশে আছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে দেশে আরো উন্নত হবে।

ছেংগারচর পৌর ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত আলী খানের সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য দেন, গজরা ইউনিয়ন আওয়মীলীগের সাধারন সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আবদুর রব, অ্যাড. মহসিন মিয়া মানিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জহির চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম, সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ছেংগারচর পৌর বাজার বনিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ লস্কর, পৌর যুবলীগ নেতা নাজমুল খান, ওমর খান, জেলা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ওসমান গনি শিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী লাভলী আক্তার, যুবলীগ নেতা আমান উল্লাহ সরকার, জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নুর নবী খান, যুগ্ম আহবায়ক মাশরুল খান তামিম, সদস্য মাসুম সরকার, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবু হানিফ অপু প্রমুখ।

ছবি-০৩

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’