শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৮১ জন অসহায় মানুষ পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:৩০ পিএম
রামপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৮১ জন অসহায় মানুষ পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মাঝে সহায়তার অংশ হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঈদ স্পেশাল ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ এপ্রিল) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়নের ১ হাজার ৮১ জন অসহায় হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ১০কেজি হারে এ চাল বিতরণ করা হয়।
ইউপি সদস্যদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী।
এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে দেশব্যাপি অসহায় দরিদ্র লোকজনকে সহযোগিতা করে আসছেন।
গত ১০ দিনে ইউনিয়নের ১২০ জন মহিলাকে ভিডব্লিওবি কার্ডের চাল, ১২০ জন জেলেকে ভিজিএফ এর চাল বিনামূল্যে বিতরণের পাশাপাশি ৫৫২ জন ব্যক্তির মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরের চাল ও ১ হাজার ৬৬ জনের মাঝে স্বল্প মূল্যের টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এখানে আপনারা সবাই কোন না কোন মাধ্যমে এ সহযোগিতা পেয়ে আসছেন। একটু হলেও উপকৃত হচ্ছেন।
আপনারা প্রাপ্ত সহযোগিতার প্রতিদান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ এ এলাকার কৃতি সন্তান সাবেক পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী এবং বর্তমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি এমপি আপার জন্য দোয়া করবেন।
চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা মোঃ সহিদুল ইসলাম, সহ সভাপতি শাহাদাত হোসেন জাকির পাটওয়ারী, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসাইন আহমেদ দুলাল, ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহসীন আলম, ইউপি সদস্য সাকিবুল হাসান খান, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আরিফুর রহমান মামুন, সাবেক ইউপি সদস্য মমিন উদ্দিন পাটওয়ারী সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’