শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

এ প্রণোদনায় প্রান্তিক পর্যায়ের চাষীদের ভাগ্য বদলে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ  হবে : মেজর রফিকুল ইসলাম

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ১৬ শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৯:৪৯ পিএম
শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ১৬ শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ
শাহরাস্তিতে চলতি অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে আউশ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ৬শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।
কৃষিই সমৃদ্ধি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, মঙ্গলবার সকালে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পরিষদ মিলন আয়তনে এ প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো:  ইয়াসির আরাফাতের  সভাপ্রধানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রেখে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়  সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।
তিনি বক্তব্য বলেন, আজ আপনারা যে প্রাণোদনা পেয়েছেন,সেটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং কৃষিকে আগ্রাধিকার দেওয়া কারণে। যার ফলে কৃষি নির্ভর এই দেশটিতে বর্তমানে প্রান্তিক পর্যায়ে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদের কলাকৌশল প্রয়োগ হচ্ছে। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে চাষাবাদ। ফলে কৃষকদের মাঝে দেওয়া এই  প্রণোদনা তাদের ভাগ্য বদলে দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে।
ওই সময় তিনি এই জনপদে বহমান ডাকাতিয়ার নাব্যতা আরো বাড়িয়ে এর জলাধারকে কাজে লাগিয়ে ফসলি জমিনের টপসওয়েল বৃদ্ধিকরে ফসল উৎপাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরিশেষে আগত সুবিধাভোগী প্রান্তিক কৃষক ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এ সময় কৃষিবিদ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তারের স্বাগত বক্তব্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, অত্র অফিসের উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, উপ সহকারী কৃষি অফিসার বলরাম সাহা, ইসহাক খন্দকার সহ সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম কর্মী, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ সুবিধাভোগী প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শাহরাস্তি, চাঁদপুর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কৃষি বান্ধব সরকার দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের অবস্থার উন্নতির লক্ষে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
এবার শাহরাস্তিতে চলতি অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচি হিসেবে ১ হাজার ৬শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১হাজার ৬শ’ বিঘা জমিনের বিপরীতে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
ওই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকদেরকে উচ্চ ফলনশীল মানঘোষিত উফসি আউশ ধানের বীজ ৫ কেজি করে ৮ মে: টন।
১০ কেজি করে এমওপি ১৬ মে: টন, ১০ কেজি করে ডিএপি ১৬ মে: টন সার বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’