শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের ফ্যামিলি আড্ডা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:১৪ পিএম
চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের ফ্যামিলি আড্ডা

চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের বার্ষিক ক্রীড়া ও ফ্যামিলি আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চাঁদপুর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও ফ্যামিলিডে অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে কর্মরত চাঁদপুরের সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এসময় তিনি বলেন, সাংবাদিক আর পুলিশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে অনেক সময় কোনো কোনো ঘটনার ক্লু উন্মোচন করা সম্ভব হয়।

সাংবাদিকরা পুলিশের মতো মাঠ পর্যায়ে এমন ভাবে কাজ করে যে পরিবারকে সময় দেয়ার সুযোগ হয় না।

Model Hospital

এক্ষেত্রে এমন আয়োজন পরিবারের মানুষের সাথে সময় কাটানো সময় হয়। একটি পরিবারের সাথে অপর একটি পরিবারের মেল বন্ধন তৈরি হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, চাঁদপুর প্রায় ১৭শ মাদক সেবী সনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে মোটিভিশনের মাধ্যমে যদি ফিরিয়ে আনা যায় তবে তা সমাজ তথা দেশের জন্য মঙ্গল। কারণ মাদকের চাহিদা কমাতে পারলে যোগান এমনিতেই কমে যাবে। খুব সহসায় তালিকভূক্ত মাদক সেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ কাজ শুরু করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রিয়াদ ফেরদৌস।

পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজির আহমেদ, চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার সময়বায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দীন শেখ ও বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ ওমর ফারুক শামীম।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আহ্বায়ক তালহা জুবায়ের ও স সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম আতিক ও সদস্য মোরশেদ আলম, সদস্য শরীফুল ইসলাম ও বিল্লাল ঢালী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন, মাছরাঙ্গা টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি নুরুল আলম, চ্যানেল ২৪ এর চাঁদপুর প্রতিনিধি আল ইমরান শোভন, সময় টিভির সিনিয়র প্রতিদেক ফারুক আহম্মদ, বিজয় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সোহেল রুশদী, বৈশাখী টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি ওয়াদুদ রানা, দেশ টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, ইটিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি নেয়ামত হোসেন, নিউজ২৪ এর চাঁদপুর প্রতিনিধি খোকন কর্মকার, মোহনা টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাবু, এখন টিভির প্রতিবেদক তালহা জুবায়ের, চ্যানেল আই এর চাঁদপুর প্রতিনিধি মোরশেদ আলম, এনটিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, আজীবন সদস্য এস এ টিভির সাবেক চাঁদপুর প্রতিনিধি জিএম শাহীন, এনটিভির সাবেক চাঁদপুর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান খান, একাত্তর টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি আল আমিন ভূঁইয়া, এটিএন নিউজ চাঁদপুর প্রতিনিধি বিল্লাল ঢালী, ইনডিপেনডেন্ট টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি আনন্দ টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি এইচ এম নিজাম, গ্লোবাল টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি সুজন আহমেদ, বাংলা টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি রহমান রুবেল সহ বিভিন্ন টেলিভিশনের সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্যরা অংশ নেয়ায় ফোরামের সভাপতি রিয়াদ ফেরদৌস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’