শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

লোকমান আলী ফকিরের ওফাত দিবস উপলক্ষে রঘুনাথপুরে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯:১২ পিএম
লোকমান আলী ফকিরের ওফাত দিবস উপলক্ষে রঘুনাথপুরে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চাঁদপুর শহরে ৫নং ওয়ার্ডে রঘুনাথপুর এলাকায় হযরত শাহ্ সুফি সাধক খাজা লোকমান আলী ফকির এর ১২তম ওফাত দিবস উপলক্ষে মাজারে ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার ২৩ মে বাদ আসর এর পর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু লোকমান আলী ফকির এর ১২তম ওফাত দিবস উপলক্ষে মাজারে ওয়াজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চাঁদপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি পীরজাদা হযরত মাওলানা খাজা জুবায়ের আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে ওয়াজ করেন হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আলী আল কাদরী চাঁদপুরী ।

Model Hospital

এ সময় তিনি বলেন, ‘হযরত ওয়ায়েজ কুরুনী রাদিআল্লাহু তা’আলাকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বেশি ভালোবাসতেন নবীজির চার খলিফা ছিল যা হযরত আবু বক্কর সিদ্দিকী রা., হযরত ওসমান গনি রা., হযরত ওমর ফারুক রা., হযরত মাওলা আলী রা., তাদের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন ওয়েজ কূরনি রা.কে। যার কারণে নবীজির গায়ের জুব্বা মোবারক তাকে দান করে গেছেন।

আমার নবীজি যখন সাহাবীদের সাথে কথা বলতেন তখন এই কথা বন্ধ হয়ে যেত তখন সাহাবীরা বলতেন নবীজির কেন কথা বন্ধ বলছেন না। নবীজি তখন বলতেন এ সাহাবীরারে আমি তোদের সাথে কথা বন্ধ করে কথা বলেছিলাম আমার ওয়েজ কূরনির সাথে। নবীজি তাকে কেমন ভালোবাসতেন তাঁর ডাকের তিনি থাকতে পারেননি, আগে ওয়েজ কূরনির সাথে কথা বলেন। এই হচ্ছে প্রেম এইভাবে আপনার অলি আউলিয়াদের সাথে প্রেম লাগান । আপনার ডাকে আমার নবিজীও সাড়া দিবে। ’

অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে ওয়াজ করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন চাঁদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান চিশতী চাঁদপুরী।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একদল আছে অলি আউলিয়াদের পছন্দ করেন না বলে কিসের মাজার আরে এদেশে যদি অলি-আওলিয়াগণ যদি না আসতো তাহলে আমার আপনারা মুসলমানি হতেন না। হযরত শাহজালাল ইয়ামানি রা. হযরত শাহ পরান ইয়ামনি রা. এরাই ইসলাম জিন্দা করে গেছেন তাদেরও মাজার রয়েছে। যে লোক আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে তিনি অলি আউলিয়ার কাতারে পৌঁছে যায় তার হয় মাজার আর সাধারণ মানুষের হয় কবর।

হযরত শাহ সুফি লোকমান আলী ফকির অলি আউলিয়ার কাতারে পৌঁছে গেছেন সেইজন্যে হয়েছে তার মাজার। আসুন আমরা সবাই অলি আউলিয়াদেরকে ভালবেসে মহান আল্লাহ রাসুলপাক ডাকি একদিন আপনিও তাদের মত হয়ে যেতে পারেন । উক্ত অনুষ্ঠান দায়িত্ব ও পরিচালনা করেন লোকমান আলী ফকিরের ভক্ত মোহাম্মদ জাকির মজুমদার, মোহাম্মদ জাকির মিয়াজী, ঢাকার মামা দেলোয়ার হোসেন, মোঃ শাহাদাত মজুমদার, মোহাম্মদ বিলাল হাজী, মাস্টার দেলোয়ার সহ ভক্তবৃন্দ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মইনীয়া ভক্ত ও দৈনিক চাঁদপুর সময় এর প্রকাশক ও বাংলা স্টার সম্পাদক ও প্রকাশন মোহাম্মদ এরশাদ খান। শান পরিবেশন করেন মোহাম্মদ আরমান বাঙ্গালী, আরো উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহ সুফি মোবারক শাহ এর ভক্ত মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ খান, রহমানিয়া দরবার শরীফের ভক্ত মোহাম্মদ নাজির হোসেন পাটোয়ারী, মো. শামছু, জাকের পার্টি যুব ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন রাশেদ, মইনীয়া ভক্ত ও চাঁদপুর সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হাসেম গাজী, মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আব্দুল মালেক মিয়াজী, লোকমান আলী ফকিরের ভক্ত মোহাম্মদ শামীম সহ ভক্ত বিভিন্ন তরিকতের আশেক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে মিলাদ শেষে সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। পরে সারারাত চলে সময় মাহফিল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’