বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ৬১ হাজার ৪৮৯টি কোরবানির পশু প্রস্তুত

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪, ১:০১ এম
চাঁদপুরে ৬১ হাজার ৪৮৯টি কোরবানির পশু প্রস্তুত

হিসাবে এ বছর চাঁদপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৮ হাজার ৫৬৬টি। তবে চাহিদার তুলনায় ১৭ হাজার ৭৭টি পশু কম রয়েছে। এছাড়া পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার খামারিদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে পশুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে মনে করছেন খামারিরা। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো চাহিদার তুলনায় যে পরিমাণ পশু রয়েছে, তাতে কোনো সমস্যা হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬১ হাজার ৪৮৯টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৩টি, মহিষ ২২৬টি ও ছাগল ২৫ হাজার ৮৭৬টি ও ভেড়া ১ হাজার ৪২টি। এছাড়া অন্যান্য পশু রয়েছে ১৪২টি।

খামারিরা জানান, কোরবানির পশু নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। সাপ্তাহিক হাটে ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে। একটু কম দামের আশায় আগে থেকে অনেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে পশু বায়না করে রাখছেন।

খামারি মোবারক জানান, এবারো কোরবানির পশুর দাম চড়া থাকবে। কারণ উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। খরচ বাড়ায় খামারিদের লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কেউ তো আর লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করবে না। কোরবানির হাট এখনো শুরু হয়নি। এখন পশু কম দামে পাওয়া গেলেও কোরবানির আগে প্রত্যাশা অনুযায়ী দামের আশা করছেন তিনি।

Model Hospital

তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের বাবু নামে আরেক খামারি বলেন, ‘গত বছরগুলোর তুলনায় এবার আরো বেশি পশু লালন পালন হয়েছে। ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগ থেকে বিক্রির চেষ্টা করব। যদি না হয় এক সপ্তাহ আগে হাটে তুলব। আশা করছি, এবার ঈদে ভালো দাম পাব।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী জেলায় পশুর হাট থাকবে ১৫১টি। পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টিম কাজ করবে। এক্ষেত্রে দুই-তিনটি ইউনিয়ন একসঙ্গে মিলে একজন পশু চিকিৎসক থাকবেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, ‘দেশে ভারতীয় গরু না থাকলেও চাহিদা মেটাতে সমস্যা হবে না। যারা মূলত বড় খামারি তাদেরই বেশির ভাগ অনলাইনে পশু বিক্রি করতে হয়। তবে চাইলেই ফেসবুক পেইজ ও অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমেও পশু বিক্রি করা যাবে। এতে কোনো ধরনের বাধা নেই। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কোনো প্রকার সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহযোগিতা করবে।’

পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কোরবানির হাটে প্রভাব পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সংকট দেখা দিয়েছে সারা বিশ্বে। পশুর প্রধান খাদ্য ভুট্টা ও গম। খাদ্য যথা সময়ে আমদানি না হলে দাম বেড়ে যায়। এতে পশুর দামেও প্রভাব পড়ে। খামারিদের বেশি দাম দিয়ে খাদ্য কিনতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে খামারিদেরও কিছু করার থাকে না। তবে গত বছরের ন্যায় এবারো পশুর ভালো দাম পাবেন খামারিরা।’

পশু বেচাকেনার বিষয়ে ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, ‘অবশ্যই ভালো গরু দেখে-শুনে বেচাকেনা করতে হবে। অসুস্থ গরু বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পশুরহাটে আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করবে।’

বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ এম
বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়-নীতি, সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাহফিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি,নৈতিকতা,ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের।’

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘ইসলামিক দল নাম দিয়ে,বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল?’ তিনি দাবি করেন, যারা মুসলমান তারা মিথ্যা বলতে পারে না। তার বক্তব্যে ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Model Hospital

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে চরমোনাই পীর দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার নিয়েও সমালোচনা করেছেন।