শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ২৩ বোতল ভারতীয় মদ নিয়ে মাদককারবারি মৃদুল ঘোষ আটক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৫১ পিএম
শাহরাস্তিতে ২৩ বোতল ভারতীয় মদ নিয়ে মাদককারবারি মৃদুল ঘোষ আটক

শাহরাস্তিতে ২৩ বোতল ভারতীয় মদ নিয়ে মৃদুল কান্তি ঘোষ নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার অভিযুক্ত ওই মাদক কারবারি মৃদুলকে শাহরাস্তি থানা পুলিশ চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি পৌরসভার কালিয়াপাড়া বাজারের তিন রাস্তা মোড়ের জাকির কনফেকশনারীর সম্মুখে এক লোক দুটি প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে অবস্থান করছিল।

ওই সময় চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, বিষয়টি অবহিত হয়ে নির্দেশ প্রদান করলে, শাহরাস্তি থানার ওসি মোঃ আলমগীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ ইসমাইল সঙ্গীয় ফোর্স একটি অভিযান পরিচালনা করেন।

Model Hospital

ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলার ঝাকুনী পাড়া ঘোষ বাড়ীর মৃত অধীর চন্দ্র ঘোষের পুত্র মৃদুল কান্তি ঘোষ (৫৫)পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে ২৩(তেইশ) বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে তাকে আটক করে।

মাস্টার ব্লেন্ডারস সিগনেচার হুইস্কি এবং প্রিমিয়ার গ্রেইন হুইস্কি এবং যাহার বোতল লেভেলে সিগ্রামস ব্লেন্ডারের প্রাইড, এক্সক্লুসিভ প্রিমিয়াম হুইস্কি ৭৫০ এমএল মেড ইন ইন্ডিয়া লিখা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬৯ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলার রুজু করে যার নং-০৮। এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আলমগীর হোসেন জানান,অভিযুক্ত মৃদুল দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক কারবারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা চাঁদপুর হাজিগঞ্জ শাহরাস্তি সহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অনেক মামলা রয়েছে।

যেমন কুমিল্লা এর কোতয়ালী মডেল থানার এফআইআর নং-৪৭, তারিখ- ২০ আগস্ট, ২০১১: ধারা- ১৯(১) এর ৩(খ)/২২(গ) ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। কুমিল্লা এর কোতয়ালী মডেল থানার এফআইআর নং-৭৮, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২; ধারা- ২২(গ) ১৯৯০সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন।

চাঁদপুর এর হাজীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-১৬, তারিখ- ২৩ মে, ২০১৩; জি আর নং-৮৫, তারিখ- ২৩ মে,২০১৩: ধারা- ১৯(১) এর ৩(খ)/১৯(১) এর ৭(ক) ১৯৯০ সালের মুদিক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন।কুমিল্লা এর কোতয়ালী মডেল থানায় এফআইআর নং-৩০/৮২৪, তারিখ- ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬; ধারা- ৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৪ পেনাল কোর্ড-১৮৬০। চাঁদপুর এর হাজীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-১২, তারিখ- ২২ জানুয়ারি, ২০১৮; ধারা- ২২(গ)/২৫ ১৯৯০ সাল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’