শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনে ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি, সংঘাত, হয়রানি ও গ্রেফতার চাইনা; পরাজীত প্রার্থী হাবু বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৫৮ পিএম
নির্বাচনে ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি, সংঘাত, হয়রানি ও গ্রেফতার চাইনা; পরাজীত প্রার্থী হাবু বেগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর হাইমচর উপজেলার ২ নং আলগি দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ব্যালট পেপার ছিনতাই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে মোটরসাইকেল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবু বেগ বিবৃতি দেন।

হাইমচরে ইউপি নির্বাচনের পরবর্তী অবস্থা নিয়ে ভোটার ও তার সমর্থকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবু বেগ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে যেভাবে নৌকা মার্কার প্রার্থী আতিকুর রহমান পাটোয়ারী নেতৃত্বে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ভোট জালিয়াতি করেছে তা দৃশ্যমান হয়েছে।

১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার কে অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কার প্রতীকে সিল মেরে ভোট জালিয়াতি করেছে। তিন নং ওয়ার্ডে কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার তার কক্ষ বন্ধ করে নিজেই ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কায় সিল মেরেছে। এই তথ্যচিত্র সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করেছে।

এসময় প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে নৌকা মার্কার প্রার্থীর দেওয়া ঘুষের অনেক টাকা পাওয়া গেছে। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র দখল করার জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে প্রশাসনের গাড়ি ভাংচুরসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। তারা কেন্দ্রের ভিতরে প্রার্থীদের এজেন্টদের পিটিয়ে বের করে দিয়েছে কয়জনকে তুলে নিয়ে আটকে রেখেছে। তাদের হামলার শিকার হবে ২ নং ওয়ার্ডে একজন ভোটার নিহত হয়েছে। প্রতিপক্ষরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে পুলিশের মাধ্যমে হয়রানি করছে। নির্বাচনে আমরা ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি কিন্তু আমরা কোন ধরনের সংঘাত চাইনা। পুলিশ আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও পুলিশি গ্রেপ্তারের হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।

Model Hospital

এসময় হাবিবুর রহমান হাবু বেগের নিজ বাড়িতে মতবিনিময় সভায় এলাকার শত শত মহিলা পুরুষ ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’