শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কন্ট্রাকে মাছ ধরছে মোহনপুরে

চাঁদপুর পদ্মা মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:০২ পিএম
চাঁদপুর পদ্মা মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা

চাঁদপুর পদ্মা মেঘনা নদীর নৌ-অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ শিকার করছে শত শত জেলে।

মা ইলিস রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে জেলা প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেও আইন মানছে না জেলেরা।

চাঁদপুর জেলায় মতলব উত্তর মোহনপুর ও হাইলচরে সবচেয়ে বেশি মাছ নিধন করছে।

মতলব উত্তর মোহনপুর নৌ পুলিশের সাথে কন্ট্রাক্ট করে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মেঘনা নদীতে শত শত জেলে নৌকা মাছ ধরে তীরে এনে বিক্রি করতে দেখা যায়।  মৎস্য কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশ যখন নদীতে নামে তার পূর্বেই মুঠোফোনে জেলেদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

Model Hospital

এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মোহনপুর নৌ পুলিশ ইনচার্জ কামরুজ্জামানের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ওই ফাঁড়ির এসআই জহির জেলেদের মাছ ধরার জন্য সহযোগিতা করেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের নাকের ডগায় থেকে এভাবে মোহনপুরে শত শত জেলে প্রকাশ্য দিবালোকে নদীতে মাছ শিকার করার কারণে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদীতে জেলেরা প্রকাশ্যে মাছ ধরছে এই অভিযোগ মৎস্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তারাসহ যৌথ অভিযান চালানো হবে কিভাবে প্রকাশ্যে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মাছ ধরছে তার সৎ উত্তর দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

এদিকে চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লালপুর, আনন্দবাজার ,রাজরাজেশ্বর , শহরের পুরান বাজার রওনাগোয়াল, হরিনা ও চান্দ্রা বাখরপুর এবং হাইমচর নীলকমল মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে ইলিশ মাছ নিধন করছে।

অসাধু জেলেরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বরফ এনে সেই মাছ বরফ জাত করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে।  মা ইলিশ মাছ রক্ষা করতে হলে নৌ পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে সংযুক্ত করে সাঁড়াশি অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ শিকারে নদীতে নামলে আটক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’