শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁদপুরে গণঅধিকার পরিষদের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ফ্যাসিবাদ সরকার মনে করেছিল কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে : আরিফ তালুকদার

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:২৮ পিএম
ফ্যাসিবাদ সরকার মনে করেছিল কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে : আরিফ তালুকদার

চাঁদপুরে গণধিকার পরিষদের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় গণ অধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদ সদস্য মো.আরিফ তালুকদার।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁদপুরে গণঅধিকার পরিষদের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় গণ অধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদ সদস্য মো.আরিফ তালুকদার।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত ছাত্র-জনতার এই মহানবিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশকে নতুন ভাবে গড়ে তুলবো। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সকল সন্ত্রসী, কুচক্রী, সহযোগীদের বিচার করতে হবে। আমরা তরুন সমাজের অহংকার ভিপি নূরের নির্দেশে রাজপথে ছিলাম এবং গনতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গনমানুষের অর্ধিকার রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাবো। খুব অল্প সময়ের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদ দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে।

Model Hospital

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের অপ্রতিরোধ্য সংগ্রামের মাধ্যমে দেড় দশকের স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়েছে। আপনারা পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেবেন। মানুষ যাতে আপনাদের ওপর ত্যক্তবিরক্ত না হয়, সেভাবে কাজ করবেন। মানুষের পাশে থাকবেন।’

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকার মনে করেছিল কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। ছাত্র–জনতার অল্প কয়েক দিনের আন্দোলনে যেভাবে পতন হলো, তা কল্পনাও করা যায়নি। এ কৃতিত্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ জনগণ ও ছাত্র- জনতা রাস্তায় নেমেছে বলেই স্বৈরাচার খুনি হাসিনা পতন ঘটিয়েছে। তার দোষররা এখনো নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), আহ্বায়ক কাজী রাসেলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড সলিম উল্লাহ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, চাঁদপুর শহর জামাতের আমীর অ্যাড শাহজাহান খান, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক এইচএম নিজাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা গণবাধিকার পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন।

এসময় অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুর্তোজা মাহমুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ, কাদের খান, যুগ্ম সদস্য সচিব সামিউল প্রধান, চাঁদপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শরীফ হোসেন, চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরনবী প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেল শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে। এ সময় ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’