শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে যুবদলের উদ্যোগে ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০২৪, ৫:৪৩ পিএম
মতলব উত্তরে যুবদলের উদ্যোগে ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে যুবদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার হোয়াইট হাউস রেষ্টুরেন্ট এণ্ড পার্টি সেন্টারে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প, দুঃস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

মতলব উত্তরে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হোয়াইট হাউস রেষ্টুরেন্ট এণ্ড পার্টি সেন্টারে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে অসহায় ও দুঃস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাসান বেনু।
উদ্বোধনকালে খায়রুল হাসান বেনু বলেন, লড়াই সংগ্রামে অর্জিত বিজয়কে সংহত করতে না পারলে আবারো নব্য ফ্যাসিবাদ হাজির হবে। তাই যুবদলের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি রুখে দিতে হবে। যুবদল সমস্ত অন্যায় সন্ত্রাস প্রতিহত করবে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেব না।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট জাতীয়তাবাদী শক্তিসহ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও এখন দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আমরা এদেশকে একটি নতুন ধারায় নিয়ে যাবো।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মিয়ার পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গনি তফাদার, সাবেক সভাপতি আকতার মুন্সি, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুজ্জামান জামান টিপু, আবদুল মান্নান সাগর, শরীফ আহাম্মদ লিটন, মামুন সরকার, মুরাদ হোসেন বেপারী, আব্দুল  আজিজ ইমন, সদস্য ফয়েজ মেম্বার, মাসুদ আলম সাগর, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল গাজী, বর্তমান আহব্বায়ক নাজমুল গাজী, সদস্য সচিব নূরে আলম অপু, সদস্য মো. বায়োজিদ, উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক নূরুল হুদা ফয়েজি,সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনু, ছাতদল নেতা নাজমুল হোসেন জিশানসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে অসহায়, হতদরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত লোকদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ প্রধান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা প্রধান করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিনের জ্যেষ্ঠপুত্র ডা. সাঈদ মোহাম্মদ রিজভী, ডা.আকলিমা আক্তার এ্যানি ও জান্নাতুল ফেরদৌস লামিয়া।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’