শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নৌকাকে হারাতে নানা পরিকল্পনা ছিল উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামীলীগের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:০১ পিএম
ফরিদগঞ্জে নৌকাকে হারাতে নানা পরিকল্পনা ছিল উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামীলীগের

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের চাঁদপুররে বিভিন্ন পত্রিকায় ইউপি নির্বাচন নিয়ে তিন বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে বলে বিবৃতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

১৯ জানুয়ারী বুধবার বিকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন ভূঁইয়া।

এসময় তারা দাবী করেন, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় গত ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেই তিনজন প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতায় জনগণের ভালবাসা অর্জন করার কারণেই বিজয়ী হয়েছেন। এই বিজয়ে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের কমিটি এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমানের কোন ভুমিকা ছিল না। বরং তিনি প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের হুমকি, বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে বিজয়ী প্রার্থীরা বলেন, ফরিদগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান এবং আওয়ামীলীগ নেতা খাজে আহমেদ মজুমদারের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ১৩জন প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করি। কিন্তু নির্বাচনে মাঠে আমরা সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান এবং আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের কমিটির কর্তৃক নানা প্রতিকুলতার সম্মুখিন হই। তারা সহযোগিতার পরিবর্তে আমাদের কর্মী সমর্থকদের নানা হুমকি ধমকি, প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। আমরা আওয়ামীলীগ মনোনীত তিন জন প্রার্থী বিগত দিনে মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি ও জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা খাজে আহমেদ মজুমদারের সার্বিক সহযোগিতার ফলে বিজয়ী হতে পেরেছি।

Model Hospital

পূর্বের সংবাদটি পড়ুন…. ফরিদগঞ্জে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি

উল্লেখ্যঃ গত ১৮ জানুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই সংবাদে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব জাহিদুল ইসলাম নোমান দাবী করেছেন “যে তিনজন জয়লাভ করেছেন তাদের বিজয়ের পেছনে আমার ও দলের ভূমিকা ছিল। তারা আমাদের সাথে নির্বাচন নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করেছে”।

জনাব জাহিদুল ইসলাম রোমানের এই দাবী অসত্য, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মনগড়া। আমরা যাতে নির্বাচিত না হই এই লক্ষে তারা প্রতিনিয়ত নানান পরিকল্পনা ও কুটচাল করেছেন। তার অংশ হিসেবে সকল ইউনিয়নে তাদের প্রতিনিধি ও কর্মীকে একদিকে আমাদের বিরুদ্ধে খাটিয়েছেন অন্যদিকে তাদের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে কাজে লাগিয়েছেন। আমাদের পরাজয়ের লক্ষে তাদের প্রতিনিধি ও কর্মীরা ধিরামানভাবে পরিকল্পনা ও কাজ করে গেছেন।

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে তার সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের খোকন এবং ওয়াহিদুর রহমান এর পক্ষে তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রিপনের নেতৃত্বে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থেকে কর্মী ও ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে এলাকায় উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং তান্ডব করেছে। উনি নিজে প্রার্থী শরীফ খানকে বলেছেন, “তুই কিভাবে নির্বাচিত হছ আমি দেখবো। তুই নির্বাচিত হলে আমি উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবো”। শুধু তাই নয়, তার পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব জিএস তছলিন, তার ইউনিয়ন প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সবুজ পাটওয়ারী, তার বাবা কৃষকলীগের সভাপতি আবদুস ছাত্তার পাটওয়ারী, শরীফ পাটওয়ারী, তার একনিষ্ঠ কর্মী ইউসুফ মিজিসহ সকলেই নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে। শুধু তাই নয়, “রোমান ভাইয়ের আনারস” মিছিল হয়েছে এবং ঐ ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে।

চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চশমা প্রতীকের প্রার্থী জনাব নুরুন্নবী জমাদারকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা কর্মী বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে ও নুরুন্নবী জমাদারের চশমা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছে।

গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির পাটওয়ারীকে (চশমা) এবং এমরান হোসেন ভূঁইয়া (আনারস) দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। এই প্রার্থীর পক্ষে তার প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, নুরে আলম রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, কাইয়ুম, জহিরুল ইসলাম খান, মুরাদ ভূঁইয়া, সোহাগ ভূঁইয়া, স্বপন ভূঁইয়া, শামিম, রিপন, তৌফিক ভূঁইয়াগং বিরামহীনভাবে কাজ করেছে।

অতএব, জাহিদুল ইসলাম রোমানের অসত্য ও বানোয়াট দাবী আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের জয়লাভের পেছনে তার বিন্দুমাত্র সহযোগিতা নেই, বরং বিরোধীতা ছিল। তদন্ত করলে আমাদের বক্তব্য প্রমাণ হবে।

এসময় রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন খান ও অসুস্থতার কারণে ভার্চুয়ালী চরদু:খিয়া পুর্ব ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পৌরসভার এমপি প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর পালোয়ান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’