শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, লা শ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:৩৬ এম
৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, লা শ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদ মাতুব্বর (৪০)। সচ্ছলতার আশায় ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বছর আগে বাড়ি ছাড়েন। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হলো না। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের কাছে খবর আসে আসাদ আর বেঁচে নেই।

আসাদ মারা যাওয়ার খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের দাবি, দালালরা অমানসিক নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছেন। শুধু মেরেই ক্ষ্যান্ত হননি, মরদেহ ফেরত দিতেও চাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসাদ মাতুব্বর মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের আবদুল হাকিম মাতুব্বরের ছেলে। দুই বছর আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়া যান। লিবিয়ায় যাওয়ার পর বন্দি হন মাফিয়ার হাতে। পরিবারের লোকজন আসাদের মুক্তির জন্য কয়েক ধাপে ৪২ লাখ টাকা দেন। তবুও তার মুক্তি মেলেনি।

আরও জানা যায়, দুই বছর আগে আসাদ মাতুব্বরের সঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝিকরহাট গ্রামের স্থানীয় দালাল রুবেল খানের ১৭ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। তবে লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরপরই টাকার জন্য দালাল চক্র তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করেন। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি নির্যাতন করার দৃশ্য মোবাইলফোনে ভিডিও কলে দেখান তারা। পরে বাধ্য হয়ে কয়েক দফায় দালাল চক্রকে ৪২ লাখ টাকা দেয় আসাদের পরিবার।

Model Hospital

বন্দি থেকেও পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করতেন আসাদ। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ফোন আসে আসাদ মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, আসাদকে টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা।

নিহতের ভাই মাসুদ মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা দালাল চক্রের মূলহোতা রুবেল খানকে এ পর্যন্ত ৪২ লাখ টাকা দিয়েছি। তবে আরও টাকা দিতে না পারায় রুবেল ও তার লোকজন মিলে নির্যাতন করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা তাদের নামে মামলা করবো।’

নিহতের স্ত্রী রাখি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে টাকার জন্য দালালরা মেরে ফেলেছে। আমি ভিডিও কলে লাশ দেখতে চাইলে তারা লাশও দেখায়নি। আমি দালালদের বিচার চাই।’

মা কুলসুম বেগম বলেন, ‘লিবিয়ার দালালরা ফোন করে আমার ছেলে মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে। আমরা লাশ ফেরত চাই। তবে লাশ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা। আমরা তাদের বিচার চাই।’

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান বলেন, নিহত আসাদের পরিবার মামলা করলে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. সজীব বলেন, মাদারীপুরে মানবপাচারের ঘটনা বেশি। এজন্য স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার আবেদন করলে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এদিকে অভিযুক্ত রুবেল খানকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ ও বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital