বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, লা শ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:৩৬ এম
৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, লা শ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদ মাতুব্বর (৪০)। সচ্ছলতার আশায় ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বছর আগে বাড়ি ছাড়েন। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হলো না। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের কাছে খবর আসে আসাদ আর বেঁচে নেই।

আসাদ মারা যাওয়ার খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের দাবি, দালালরা অমানসিক নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছেন। শুধু মেরেই ক্ষ্যান্ত হননি, মরদেহ ফেরত দিতেও চাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসাদ মাতুব্বর মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের আবদুল হাকিম মাতুব্বরের ছেলে। দুই বছর আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়া যান। লিবিয়ায় যাওয়ার পর বন্দি হন মাফিয়ার হাতে। পরিবারের লোকজন আসাদের মুক্তির জন্য কয়েক ধাপে ৪২ লাখ টাকা দেন। তবুও তার মুক্তি মেলেনি।

আরও জানা যায়, দুই বছর আগে আসাদ মাতুব্বরের সঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝিকরহাট গ্রামের স্থানীয় দালাল রুবেল খানের ১৭ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। তবে লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরপরই টাকার জন্য দালাল চক্র তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করেন। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি নির্যাতন করার দৃশ্য মোবাইলফোনে ভিডিও কলে দেখান তারা। পরে বাধ্য হয়ে কয়েক দফায় দালাল চক্রকে ৪২ লাখ টাকা দেয় আসাদের পরিবার।

Model Hospital

বন্দি থেকেও পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করতেন আসাদ। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ফোন আসে আসাদ মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, আসাদকে টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা।

নিহতের ভাই মাসুদ মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা দালাল চক্রের মূলহোতা রুবেল খানকে এ পর্যন্ত ৪২ লাখ টাকা দিয়েছি। তবে আরও টাকা দিতে না পারায় রুবেল ও তার লোকজন মিলে নির্যাতন করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা তাদের নামে মামলা করবো।’

নিহতের স্ত্রী রাখি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে টাকার জন্য দালালরা মেরে ফেলেছে। আমি ভিডিও কলে লাশ দেখতে চাইলে তারা লাশও দেখায়নি। আমি দালালদের বিচার চাই।’

মা কুলসুম বেগম বলেন, ‘লিবিয়ার দালালরা ফোন করে আমার ছেলে মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে। আমরা লাশ ফেরত চাই। তবে লাশ নিতে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা। আমরা তাদের বিচার চাই।’

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান বলেন, নিহত আসাদের পরিবার মামলা করলে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. সজীব বলেন, মাদারীপুরে মানবপাচারের ঘটনা বেশি। এজন্য স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার আবেদন করলে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এদিকে অভিযুক্ত রুবেল খানকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ ও বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’