শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি ও

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইউএনও’কে বিদায়ী সংবর্ধনা

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:২৩ পিএম
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইউএনও’কে বিদায়ী সংবর্ধনা

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীলকে বদলীজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করছেন সাংবাদিকরা।

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস শীলকে বদলীজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

সভাপতি হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলা সভাকক্ষে তাঁকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সম্প্রতি তিনি সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক পদে পদায়ন হয়েছেন এবং আগামি সোমবার তিনি হাজীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিবেন।

ইউএনও তাপস শীল তাঁর বক্তব্যে বলেন, হাজীগঞ্জে যোগদানের পর এই উপজেলার মানুষকে আপন করে নিয়েছি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারি বজায় রেখে কাজ করেছি। এক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আশাকরি, সমাজের দর্পন হিসেবে আপনাদের কাজকে অব্যাহত রাখবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।

Model Hospital

সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফের উপস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সমন্বয় কমিটির সদস্য গাজী সালাউদ্দিন, কার্যকরি কমিটির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও কবির আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জয়, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনজুর আলম পাটওয়ারী, কার্যকরি সদস্য মহিউদ্দিন আল আজাদ, সাইফুল ইসলাম সিফাত, গাজী নাছির উদ্দিন।

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীলকে বদলীজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করছেন সাংবাদিকরা।

বক্তব্য শেষে সংবর্ধিত অতিথি তাপস শীলের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন, সভাপতি হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এর আগে সংবর্ধিত অতিথিকে নিয়ে স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন, প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য কাজী মোরশেদ আলম।

এদিকে একই সময়ে হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইউএনও তাপস শীলের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন, সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিফাত ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এসময় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন হীরা, কার্যকরি সদস্য কামরুজ্জামান টুটুল ও সাইফুল ইসলাম, সম্মানিত সদস্য হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির অর্থ সম্পাদক জাহিদ হাসান, প্রচার সম্পাদক এমআলী মুজিব, সদস্য মজিবুর রহমান রনি, নুর মোহাম্মদ ও রিমেলসহ অন্যান্য সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’