শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পৌরসভার ১০ ওয়ার্ড বিএনপির ২নং মহল্লা কমিটির সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:৪৯ পিএম
চাঁদপুর পৌরসভার ১০ ওয়ার্ড বিএনপির ২নং মহল্লা কমিটির সম্মেলন

চাঁদপুর পৌরসভার ১০ ওয়ার্ড বিএনপির ২নং মহল্লা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় নতুন বাজার ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ও ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম মক্কু ছৈয়াল।

এসময় তিনি বলেন, আগষ্টে মুগ্ধ এর মতো শত শত মুগ্ধ শহীদ হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে দেশশ্রেমিক জনগণ আমরা একত্রে বসতে পেরেছি। আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়নি আমাদের যুদ্ধ শেষ হবে নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মধ্যদিয়ে আমাদের যুদ্ধ শেষ হবে। তৃণমূল সক্রীয় হলে কেন্দ্র সক্রীয় হবে। তাই আগে তৃণমূলকে সক্রীয় করৈ তুলতে হবে। সকল মানুষকে ভালবাসা দিয়ে দলে আহবান করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান করেছেন।

২নং ওয়ার্ড মহল্লা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মিজির সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সমন্বয়ক কমিটির সদস্য কবির হোসেন মিয়াজি, নাহিদা সুলতানা সেতু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, চাঁদপুর পৌর ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্যাহ পাটওয়ারী, ১১নং ওয়র্ড বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন , ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান সুমন মস্তান।

Model Hospital

উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিঠু, শহর বিএনপির মৎস বিষয় সম্পাদক আবুল হাসেম খান, মক্কা মহানগর বিএনপির সভাপতি আমিন হাওলাদার, জেলা যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ মিজি, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদ পাটওয়ারী, পৌর ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিল খান ইয়াসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহআলম কিরন, সহ সাধারণ সম্পাদক আঃ হান্নান মিয়া, সাবেক যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির, ১০নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহেদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সোহেল, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা যুবায়ের আলম বাপ্পি, নজরুল ইসলাম বেপারী, ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মরু চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন মাহফুজ, ১০নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন পাটওয়ারীর, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মিজি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আঃ খালেক ও কোষাধ্যক্ষ মোঃ জসিম হোসেনসহ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’