শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ বছরে পদার্পণ করলো বাঁধন পাঠাগার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৫২ পিএম
২০ বছরে পদার্পণ করলো বাঁধন পাঠাগার

২০ বছরে পদার্পণ করলো বাঁধন পাঠাগার।

‘যতোই হোক ক্লেস, যুবরাই গড়বে দেশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে গত ২০বছর আগে  চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাধঁন পাঠাগার।
সমাজে যখন চলছিল কুসংস্কার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ঘুষ ও দুর্নীতির কার্যক্রম ঠিক সে সময়ই ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামে বাঁধন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রসুল ঢালী ও গ্রামের কিছু শিক্ষিত তরুণরা মিলে দিনবদলের পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করে।
২০০৫সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাঁধন পাঠাগারটি। তৎকালীন তথ্য ও সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হুদা, ছেংগারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র আমেনা বেগম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, একটি জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুভ উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ শিক্ষা, ক্রীড়া, মানবসেবামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, শূন্য থেকে ৫বছরের শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ এবং হাতে-কলমে শিক্ষা দান সহ নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি সমাজ এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বয়স্ক নারী ও যুবতীদের কুরআন শিক্ষা এবং হাদিসের আলোকে ইসলামিক শিক্ষা প্রদান, প্রতিবছর বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল, অসহায়ের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা, কৃষকদের ধান কেটে দেওয়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা, প্রতি রমজানে ইফতার বিতরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা প্রদানসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিল পাঠাগারটি।
২০ বছরের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়া এলাকায় সার্থক হয়েছে কুসংস্কার, সামাজিক অনিয়ম কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, মেধাবির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাঁধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রসুল ঢালী জানান, গত ২০ বছর আগে আমি সহ আমাদের গ্রামের সকলের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলাম এই প্রতিষ্ঠানটি। যা আজও সুনামের সাথে চলমান রয়েছে। তবে কয়েক বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতি হলেও এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কয়েকটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁধন পাঠাগারটি মাধ্যমে অতীতের সকল কার্যক্রমের সাথে আরো কিছু নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যমত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
তিনি আরও বলেন, যারা এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আমি সকলের কাছে চির কৃতজ্ঞ। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা করার জন্য আমার গ্রামবাসী আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে আমি আশাবাদী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’