শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ৫ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান

আমরা শিক্ষকদের সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করবো না : ইউএনও হেলাল চৌধুরী

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:২২ পিএম
আমরা শিক্ষকদের সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করবো না : ইউএনও হেলাল চৌধুরী

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা।

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাসনিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধিত শিক্ষকরা হলেন, মো. আব্দুর রহমান (বি.কম), মাও. মো. সফিকুর রহমান, মো. হারুনুর রশীদ তালুকদার, মো. আবু জাফর মজুমদার (মরণোত্তর) ও সুকুন চন্দ্র রায় (মরণোত্তর)।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিন উল্যাহ’র সভাপতিত্বে, প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও শিক্ষক উম্মে সালমা তন্নীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী।

Model Hospital

এসময় তিনি বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের বিদায় ও সংবর্ধনার আয়োজন বিরল। কতটা ভালোবাসা থাকলে এই রকম সুন্দর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়। এর মধ্যে ও আমরা শিক্ষকদের সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করি। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি ইতিমধ্যে আর্থিক বরাদ্দ দিয়েছি। সরকারের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভীত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় তিনি তাঁর শৈশবের বিদ্যালয়ের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাড. ইব্রাহীম খলিল মজুমদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আশ্রাফপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন সোহাগ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবুল হোসেন মজুমদার, মোজাম্মেল হক কুটু, ফজলুল হক মজুমদার, আক্তার হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন ও তাজুল ইসলাম আকাশ, সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ডা. কবির হোসেন সোহেল ও সদস্য সচিব আবুল বাশার মজুমদার। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসেন, মনির হোসেন, মোশারফ হোসেন, খোরশেদ আলম ও পলাশ মজুমদারসহ আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’