শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৎ বোনের ভুট্টা গাছ কর্তন!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:০৩ পিএম
মতলব দক্ষিণে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৎ বোনের ভুট্টা গাছ কর্তন!

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সৎ বোনের ১২ শতাংশ জমির ভুট্টা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মতলব দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ভানুরপাড় গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী প্রধানের প্রথম সংসারের মেয়ে সুফিয়া বেগম তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১২ শতাংশ জমিতে ফসল আবাদ করে আসছেন। সুফিয়া বেগমের সৎ ভাই গিয়াসউদ্দিন, হাসান, হোসেন, বোরহান, শাকিল, ফরহাদসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তারা সুফিয়াকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে গিয়াসউদ্দিন সহ অন্য ভাইয়েরা ঢাকা থেকে এসে সুফিয়া বেগমের আবাদ করা ১২ শতাংশ জমির ভুট্টা গাছ কেটে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার আবুল বাশারের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, আমি ঘাঁষ কাটছিলাম এসময় আমার হাত থেকে জোর করে কাচি নিয়ে ভূট্টা গাছগুলো কেটে ফেলে তারা। অপর প্রত্যক্ষদর্শী খাদিজা বেগম বলেন, আমি তাদেরকে বাঁধা দিলে তারা বলেন, আমাকে খালের পানিতে ফেলে দেবে। মো. আলহাজ উদ্দিন নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমিও তাদেরকে ভূট্টা গাছ কাটতে নিষেধ করেছি। বলেছি ফসল উঠে গেলে বসে সমাধান করা হবে। তারা আমার কথা না শুনে ভূট্টা গাছগুলো কেটে চলে যায়।

Model Hospital

এ বিষয়ে ভূক্তভোগি সুফিয়া বেগম বলেন, আমার আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে সৎ ভাইয়েরা আমার দখলি জমি জোরপূর্বক দখল করতে চাইছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমার ভূট্টা গাছ কেটে তারা পালিয়ে যায়। আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মেম্বার-চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় মতলব দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’