শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সেনাবাহিনীর অভিযানে লক্ষ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর চেম্বার অফ কমার্স সভাপতির গোডাউনে কেমিক্যাল মিশ্রিত চাল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:০৩ পিএম
চাঁদপুর চেম্বার অফ কমার্স সভাপতির গোডাউনে কেমিক্যাল মিশ্রিত চাল

চাঁদপুর পুরান বাজারে গোডাউনের ভিতর নিম্নমানের কম দামি পোলাউ চাউলের বস্তা খুলে কেমিক্যাল মিশিয়ে নামিদামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ঢুকিয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে গ্রাহকদের সাথে করছে প্রতারণা।

চাঁদপুর চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি সেলিম আখনের গোডাউনে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল চাষী ব্র্যান্ডের পোলাউ চাউল ধরেছে। এ সময় গোডাউনের ভিতরে থাকা নকল চাষী ব্যান্ডের প্যাকেটগুলো জব্দ করেছে।

দুপুরে সেনাবাহিনী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে নকল ব্র্যান্ডের পোলাউ চাউল ধরতে সক্ষম হয়েছে।

পুরান বাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিম আখনের ম্যানেজার সঞ্জয় সরকারকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

Model Hospital

সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট আবু নাঈমের নেতৃত্বে অভিযানে ছিলেন সরকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন, সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আলমগীর, চাঁদপুর মডেল থানার এসআই ফেরদৌস।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রোজা আসলেই পুরান বাজারের অসাধু মুখোশধারী ব্যবসায়ীরা গোডাউনের ভিতর নিম্নমানের চাউলের বস্তা খুলে সুগন্ধি কেমিক্যাল পাউডার মিশিয়ে তা নামিদামি ব্যান্ডের প্যাকেটে ঢুকিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। অল্প সময়ে এসকল মুখোশধারী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এ সকল প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক করেই অবৈধভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে মুখোশধারী এ সকল ব্যবসায়ীদের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ধরে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। এতে করে সেনাবাহিনীর উপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরে এসেছে। এছাড়া পুরান বাজারে যে সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা গোডাউনের ভিতর বিভিন্ন অন্য সামগ্রী নকল করে ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান চালানোর অনুরোধ জানায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

এই বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় পুরান বাজারের একটি চাউলের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এখানে লোকাল চাউল চাষী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ঢুকিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করছে। সেই চাউলগুলো জব্দ করে ভোক্তা অধিকার আইন অনুসারে এদেরকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। রমজান উপলক্ষে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন প্রতারণা না হয় এবং যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি সেলিমা আখনের ম্যানেজার সঞ্জয় সরকার জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ এই গোডাউনের ভিতর লোকাল চাউল খুলে তা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ঢুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এরকম পুরান বাজারে আরো অনেক ব্যবসায়ীরা এই কাজটি করে থাকে। চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিম আখনের নির্দেশেই তার গোডাউনে চাউল প্যাকেটজাত করা হয় বলে স্বীকার করেন।

এদিকে ম্যানেজার সঞ্জয় সরকারকে নিয়ে সেনাবাহিনী পুরানবাজারে সিরাজ খান নামে এক ব্যবসায়ীর চাউলের আড়োৎ এ অভিযান চালায়। তবে সেখানে কোন কিছু পাওয়া যায়নি।

তবে রমজান উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে সেনাবাহিনী তৎপর রয়েছে ও তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানায়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’