শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৫টি সেরা পুরষ্কার নিয়ে আরটিসি ট্রেনিং শেষ করলেন চাঁদপুরের রোটার‍্যাক্ট অমরেশ দত্ত জয়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪১ পিএম
৫টি সেরা পুরষ্কার নিয়ে আরটিসি ট্রেনিং শেষ করলেন চাঁদপুরের রোটার‍্যাক্ট অমরেশ দত্ত জয়
কৃতিত্বের সাথে ৫টি সেরা পুরষ্কার নিয়ে আরটিসি ট্রেনিং-২০২৫ সফলভাবে শেষ করেছেন চাঁদপুরের রোটার‍্যাক্ট অমরেশ দত্ত জয়। তিনি রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব সেন্ট্রাল গার্ডেন চাঁদপুরের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
২২ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকালে তিনি ট্রেনিং শেষে ৫টি পুরষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, রোটার‍্যাক্ট অমরেশ দত্ত জয়ের অর্জনগুলো হচ্ছে বেকারের আত্মকাহিনী শিরোনামে একক অভিনয়ে ১ম, রম্য সংবাদ শিরোনামে দ্বৈত অভিনয়ে ১ম, খ্যাতির বিড়ম্বনা নিয়ে আরজে’ এর অভিনয়ে ৩ জনের অভিনয়ে ১ম, সেকালের সিনেমা শিরোনামে দলগত অভিনয়ে ১ম এবং দলগত শিষ্টাচারে তাদের দল ভিশনারিজ এর হয়ে বেষ্ট টিম হিসেবেও ১ম স্থান অর্জন করেন।
ময়ময়সিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের সদ‌স্যদের ৩৪তম রোটার‌্যাক্ট ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রতিবছরই পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্বগুণ বিকাশ ও সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফা‌রেন্স কক্ষে এই কর্মশালার সমাপনী অনু‌ষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় সারা দেশ থেকে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ৩৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এবারের স্লোগান ছিলো ‘প্রজন্মের সেতুবন্ধন, আগামীর নির্মাণ।’ ছয় দিনব‌্যাপী এই কর্মশালার সমাপনীতে গ্র‌্যাজু‌য়েট ট্রেনিং ইন্স‌টি‌টিউ‌টের (জিটিআই) পরিচালক অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়ার সভাপ‌তি‌ত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাকৃ‌বির উপাচার্য অধ‌্যাপক ড এ‌ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বি‌শেষ অ‌তি‌থির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র বিষয়ক উপ‌দেষ্টা অধ‌্যাপক ড মো শ‌হীদুল হক, প্রক্টর অধ‌্যাপক ড মো আব্দুল আলীম, বাকৃ‌বির‌ শিক্ষক স‌মি‌তির সভাপ‌তি অধ‌্যাপক ড মো র‌ফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলা‌দেশ‌ সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক‌্যা‌প্টেন ড মো মে‌হেরুল হাসান এবং কোর্স কো অর্ডিনেটর মোজা‌ম্মেলহকসহ অন্যান্য রোটারিয়ান সদস্যরা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রোটার‌্যাক্ট অমরেশ দত্ত জয় বলেন, শিক্ষার্থী‌দের পেশাগত এবং আত্ম-উন্নয়নের জন‌্য রোটার‌্যাক্ট অন‌্যতম সংগঠন। এখা‌নে তা‌দের দক্ষতা বৃ‌দ্ধির জন‌্য প্রত্যেক বছর প্রশিক্ষ‌ণে যাওয়ার ব‌্যবস্থা করা হয়। যেখা‌নে অ‌ফিস ব‌্যবস্থাপনা ও প‌রিকল্পনাসহ নানান বিষ‌য়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত রোটার‌্যাক্ট অব এ‌গ্রি ভা‌র্সিটি ক্লাব ১ হাজার ৪৭৭ জন‌ শিক্ষার্থী‌কে প্রশিক্ষণ দি‌য়ে‌ছে। দে‌শের প্রতি‌টি ক্লাব থে‌কে প্রতি‌যো‌গিতার মাধ‌্যমে ১জন ক‌রে প্রশিক্ষ‌নের সু‌যোগ পায়। আমিও রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব সেন্ট্রাল গার্ডেন চাঁদপুরের থেকে এখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আশা করবো এখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দে‌শের আর্থসামা‌জিক উন্নয়‌নে দে‌শের নানান কর্মক্ষে‌ত্রে দক্ষতা ও সুনামের সা‌থে কাজ কর‌ে যাবো। আমার চলার পথের শুভকামনায় সকলের আশির্বাদ প্রত্যাশা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’