শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি মাধ্যমিক শি:স:ক: সমিতি'র নব- নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শিক্ষক মিলন মেলা-২০২৫

শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিন, যেন জীবন জীবিকায় সহায়ক হয় : ইউএনও নিগার সুলতানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:০৪ পিএম
শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিন, যেন জীবন জীবিকায় সহায়ক হয় : ইউএনও নিগার সুলতানা
শাহরাস্তি মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ কল্যাণ সমিতি’র নব- নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শিক্ষক মিলন মেলা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দিন দিনব্যাপী শাহরাস্তি উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে শাহরাস্তি মাধ্যমিক শি: স: ক: সমিতি’র আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ওইদিন শাহরাস্তি মাধ্যমিক শি: স: ক: সমিতি’র সভাপতি মো: আব্দুর রহিম প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা।
তিনি তার বক্তব্য বলেন,শিক্ষকরা হলেন সমাজের আলোর দিশারী। তাদের মেধাসত্ব থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হয়ে সমাজ ও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে অবদান রাখছে। আজ এ শিক্ষকদের মিলনমেলা ও অভিষেক অনুষ্ঠানটি ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।
এছাড়া তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আগামী প্রজন্মকে এমনভাবে শিক্ষা দিন, তারা যেন পাঠক্রমের বা পাঠগ্রহণের বাইরে গিয়ে মুঠোফোনের সর্বনাশা কার্যকলাপ ও মাদকের ছোবলে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখার তাগিদ দেন।
একই সঙ্গে তিনি জীবন জীবিকায় সহায়ক হয় এমন শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরিশেষে তিনি সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ উপস্থিত বিশিষ্টজনরে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমিতির সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রহিম স্মৃতিচারণ করে নাতিদীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন, তিনি ওই সময় এই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও আমৃত্যুসভাপতি ও শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমান স্যারের অবদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
যিনি এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করে ক্ষান্ত থাকেনি তিনি শিক্ষকদের কল্যাণে ভূমি ক্রয় করে একটি পাকা অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণ করে গেছেন তা কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে তিনি স্মরণ করেন।
এছাড়া সমিতির অবদানের জন্য সাবেক সভাপতি মরহুম সিদ্দিকুর রহমান স্যার, সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত বাবু হরেবন্ধু মজুমদারকে মরণোত্তুর সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নতুন প্রজন্মের অহংকার বিশিষ্ট ক্রিড়া সংগঠক,সামাজিক ব্যক্তিত্ব, জারিফ ফার্মার স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দীপু।
এছাড়া সিনিয়র শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ও শিক্ষিকা নুরজাহান আক্তার রূপার সঞ্চালনা এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এমএসসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ আলী আশ্ররাফ খান মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অধ্যক্ষ মো: মিজানুর রহমান মেহের ডিগ্রী কলেজের,সমিতির সাবেক এড হক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, মোঃ জহিরুল ইসলাম বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মোঃ ফারুক হোসেন মিয়াজী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতির ব্যক্তিত্ব, মোঃ আলী আজগর মিয়াজী কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শাহরাস্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ফরিদ আহমেদ কুমিল্লা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে, উপজেলা প্রোগ্রামার মোঃ শাহাজান, সমিতির সহ-সভাপতি আবুল বাসার পাটোয়ারী, সৈয়দ আহমেদ মোল্লা সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহরাস্তি উপজেলা স্কাউটসহ উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয় এর প্রধান ও সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং  শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্মরণকালের এই অনুষ্ঠানটি সার্থক এবং সফল হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ শুকরিয়া আদায় করেন।
পরবর্তীতে মধ্যাহ্ন ভোজন শেষে পড়ন্ত বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’