শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে হাইমচরে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৪৮ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে হাইমচরে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের উন্নয়নের রুপকার, শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা.দীপু মনি এমপি’র বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তমূলক বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে অসত্য, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে হাইমচর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাহিদ হাসান এর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারী) বিকাল ৪ টায় আলগী বাজার হাইমচর উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ আলগী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাসপাতালে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে হাইমচর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাহিদ হাসান তিনি বলেন, ডা.দীপু মনি এমপি শুধু চাঁদপুরেরই গর্ব নয়, তিনি বাংলাদেশের একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত হাতিয়ার। এছাড়া চাঁদপুরের রাজনীতিতে ডা. দীপু মনি এমপি একজন অভিভাবক। তাই জ্ঞানহীন মিথ্যা বক্তব্য আমরা মেনে নিতে পারবো না।
বক্তারা আরো বলেন, যেহেতু চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহন চুড়ান্ত হয়নি, শিক্ষামন্ত্রী ও তার পরিবারের কোন সদস্যের নামে দলিল নেই সেখানে কিভাবে তারা দূর্নীতি করবেন? তাছাড়া ভূমিগ্রহনতো তার কোন বিষয় নয়। জেলা প্রশাসনের বিষয়। তাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মিথ্যা বানায়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে জনসম্মুখ্যে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানাচ্ছি। তা না হলে আমরা রাজ পথে নামতে বাধ্য হবো।
উক্ত মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা বাহাউদ্দীন, শাকিব,আলভী, মতিউর রহমান সানজিদ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আঃ কাদির, আহমেদ নাঈম, সাইদ হোসেন অপু,রিপন, হাসান রাব্বি, আরিফ হোসেন, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শরিফ জমদার, ফরিদ আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল, মুসলিম, রফিক,আল আমিন,আহসান হাবিব,আলভী,সজিব সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’