শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা ছাত্র জমিয়তের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম
চাঁদপুর জেলা ছাত্র জমিয়তের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফুল ইসলাম বলেছেন, পবিত্র রমজান মাস।

মুমিনের তাকওয়া ও পূন্য অর্জনের পূন্যময় মাস। রমজান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে খুবই প্রিয়। শুধু রমজানেই নয়; একজন সফল মুমিনের জন্য তাকওয়াপূর্ণ জীবন সর্বদাই জরুরি। আল্লাহ তা’য়ালার ভয় হৃদয়ে না থাকলে প্রবৃত্তির গোলাম হতে হয়। প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে হয়। তাকওয়া বান্দার হক নষ্ট করা থেকেও বিরত রাখে। অন্যায়, অশ্লীলতা, পঙ্কিলতা, অপকর্ম, পাপাচার, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি ইত্যাদি সকল প্রকারের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

আজ শনিবার (২৯ মার্চ) চাঁদপুর শহরের এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে মাহে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা ছাত্র জমিয়তের সহসভাপতি আশরাফ শাহীনের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাখেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমাদ। এসময় তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতন হলেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিবাদকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। অতএব অতিদ্রুত সময়ে জুলাই আগস্টের গণহত্যার বিচার করতে হবে এবং আমরা যদি সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে পারি তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে আমরা মোকাবিলা করতে পারবো। জুলাই-আগষ্টের অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের কোনো ক্রেডিট নয় বরং তা হয়েছিলো জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।

Model Hospital

সভাপতির বক্তব্যে আশরাফ শাহীন বলেন, চাঁদপুর জেলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, চাঁদপুর নিয়ে নতুন করে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র ছাত্র-সমাজ মেনে নিবেনা। কঠোর হস্তে প্রতিরোধ করবে। যদি তারুণ্যের এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি আমরা তাহলে আগামীর বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছবে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক বাদশাহ, জেলা জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মুফতি আরিফ বিল্লাহ কাসেমী, জেলা ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দিন মানিক, জেলা যুব জমিয়তের সদস্য সচিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম।

বন্ধু প্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্র মজলিস বাইতুল মাল সম্পাদক মো. রফিউর রহমান, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক একেএম মাসউদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদ চাঁদপুর জেলার খলিলুর রহমান, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ফয়সাল আহমাদ।

সর্বশেষ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফুল ইসলাম দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’