শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে বিএনপির জনসভায় লায়ন হারুনুর রশিদ

বিএনপির আদর্শকে লালন করে নিরলস কাজ ভাবে করেছি

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম
বিএনপির আদর্শকে লালন করে নিরলস কাজ ভাবে করেছি

ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বিএনপির আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক এমপি লায়ন মো. হারুনুর রশিদ  বলেছেন, গত দুই দশক ধরে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপির আদর্শকে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করেছি।
আমার কর্মের প্রতি আস্থাশীল হয়ে বিএনপির আমাকে দুইবার চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে ধানের শীষের প্রতিকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার কথা পৌঁছে দিতে ফরিদগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বত্র সভা সমাবেশ করছি। আরেকটি বড় কারণ হলো প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে আমরা বিএনপিকে চাঙ্গা এবং নেতাকর্মীদের বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা করছি। আমার প্রচেষ্টা আজ থেকে শুরু হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,  উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিল্লাল হোসেন কোম্পানী, জেলা যুবদলের সদস্য ফজলুর রহমান, পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক পেয়ার আহাম্মেদ, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওঃ আবুল কালাম আজাদ শামীম, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান কালু, সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মাষ্টার, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম সর্দার, বিএনপি নেতা আবু তালেব চৌধুরী, হারুনুর রশিদ।
এ সময় রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন খান, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুব মোরশেদ কচি পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টুটুল পাটওয়ারী, জেলা যুবদলের সদস্য সোহেল খান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এম এ কাইয়ুম, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ভূঁইয়া, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ফরিদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন সিহাব, পৌর যুবদল নেতা শাওন পাঠান, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন আখন সুজন, মহিলা দলের নেত্রী পারুল বেগমসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’