শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাজার ইজারা নিয়ে উত্তেজনা, বিপাকে ইজারাদার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
বাজার ইজারা নিয়ে উত্তেজনা, বিপাকে ইজারাদার
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা বাজার সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বাজারটির ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ, যাতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান আব্দুল মতিন নামের এক ব্যবসায়ী।
তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার আব্দুল মতিন। বাজারে থাকা মৎস্য আড়ৎদাররা তার কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। খাজনা আদায় নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং ইজারাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসক, থানা ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন আড়ৎদাররা।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান জানান, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাটিয়ালপুর বাজার ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারাদারের খাজনা আদায়ের বৈধতা রয়েছে। আড়ৎদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য আড়ৎদাররা শতকরা দুই শতাংশ হারে সরকারি খাজনা দিতে নারাজ। তাদের দাবি, খাজনা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। এমনকি, ইজারাদার যখন মাত্র ০.৫০ পয়সা খাজনা দাবি করেন, তখনও আপত্তি জানান তারা। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, “আমি সরকারি নীতিমালার বাইরে কিছু দাবি করিনি। বরং খাজনা হার অনেক কম রেখেছি। তবুও আড়ৎদাররা মিথ্যা অভিযোগ করে প্রশাসনে আমাকে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে ভাটিয়ালপুর এলাকার সাবেক কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, “মতিন আমার সাথে আলোচনা করে খাজনা আদায়ের বিষয়ে সম্মতি নিয়েছিল। আমি আড়ৎদারদের পক্ষ নিয়ে সর্বনিম্ন হারেও খাজনা দিতে বলি, তবুও তারা রাজি হয়নি।”
বাজারের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা অন্যান্য বাজারে খাজনা দিয়ে ব্যবসা করি। এখানে কেন এত সমস্যা, বুঝতে পারছি না।”
সচেতন মহলের মতে, বাজারটি নতুনভাবে ইজারা দেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’